প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যেই ফল প্রকাশের আয়োজন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে গত ২৪ মে শুরু হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এরপর একে একে চারটি ধাপেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারও করা হয়। দাবি ওঠে পরীক্ষা বাতিলের। প্রার্থীদের মানববন্ধনও অব্যাহত আছে। কিন্তু এসবের মধ্যেই এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই এই ফল প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চারটি ধাপে এ ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে ডিপিইর মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মঞ্জুর কাদির গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের কাজ শুরু করা হয়েছে। চারটি ধাপে এ ফল প্রকাশ করা হবে। প্রথম ধাপের ফল আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী প্রতি সপ্তাহ ব্যবধানে চারটি ধাপে ৬১ জেলার ফল প্রকাশ করা হবে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়া জেলাগুলোতে পরবর্তী এক সপ্তাহ পরে মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিইর নিয়োগ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। বুয়েটে খাতা

স্ক্যান করে ওএমআর শিট মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাই আগস্ট মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা সম্ভব।’

এদিকে এই পরীক্ষার প্রায় সব ধাপেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হাওয়া পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলে প্রার্থীরা গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মানববন্ধনে পরীক্ষা বাতিলের দাবি তোলে।  প্রশ্নফাঁসের পরও ফল প্রকাশের কারণ জানতে চাইলে ডিপিইর মহাপরিচালক বলেন, ‘যদিও দুই-একটি স্থানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে; এ অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁস খুব একটা প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার প্রথম ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেন।  লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ফল তৈরির কাজ শেষ করতে বেশি সময় প্রয়োজন হচ্ছে। নতুবা আরও আগেই এ ফল প্রকাশ করা সম্ভব হতো।’

গত বছরের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বছরের ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। ১২ হাজার আসনের বিপরীতে সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ ৫ প্রার্থী আবেদন করেন। সে হিসেবে প্রতি আসনে প্রায় ২০০ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রথম ধাপ ২৪ মে ও দ্বিতীয় ধাপ ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ২১ জুন ও চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা ২৮ জুন সম্পন্ন হয়।