সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে রংপুরে দাফন করার দাবি জানিয়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের দাবি, এরশাদকে সমাহিত করা হোক বাবা-মায়ের পাশে কিংবা এরশাদের নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের পল্লিনিবাসে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন,
‘স্যারের দাফন রংপুরে করার জন্য গত সোমবার আমি সংবাদ সম্মেলন করেছি। আমাদের রাজনৈতিক পিতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্যার পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র দাবি স্যারের অসিয়ত করা স্থান পল্লিনিবাসে তাকে সমাধি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এরশাদ স্যার অসুস্থ শরীর নিয়ে এ বছরের মার্চে রংপুরে এসেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন আমার শরীর ভালো নেই। আমি যেকোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারি। তোমরা আমার ডিজাইনে পল্লিনিবাসে আমার সমাধি কমপ্লেক্স করিও। আমি মৃত্যুর পরও তোমাদের মাঝে থাকতে চাই।’
জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের নেতাকে রংপুরেই কবরস্থ করা হোক। রংপুরের মানুষ সব সময় যেন তার কবর জিয়ারত ও দোয়া কামনা করতে পারেÑ এ জন্য আমরা চাই তাকে রংপুরে দাফন করা হোক।’
পান দোকানি আবদুুল মালেক বলেন, ‘এরশাদের বাবা-মায়ের কবর রংপুরে। তাই আমরা দাবি করছি তাকে রংপুরেই কবর দেওয়া হোক।’
গত ২৮ জুন রংপুরে আসার কথা ছিল এরশাদের। তার সফরে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতেই তিনি রংপুরে আসতেন এবং নির্মাণাধীন বাড়িতেই এবার ওঠার কথা ছিল তার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি রংপুরে আসতে পারেননি।
জাপার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও এরশাদের ঘনিষ্ঠ মুন্সী আব্দুল বারী দেশ রপান্তরকে বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পার্কে স্যার পল্লিনিবাসে তার কবর দেওয়ার জন্য অসিয়ত করেছেন। আমাকে বলেছেন, আমার কবর পল্লিনিবাসেই যেন দেওয়া হয়। তিনি আমাকেও এ-ও বলেছেন, রংপুরের মাটিতেই যেন আমার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ হয়, আমাকে রংপুরে পল্লিনিবাসেই কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করবে; আমি সারা জীবন যেন রংপুরের মানুষের কাছে থাকতে পারি। এ কথা তার ভাতিজা প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর, কর্মচারী ছাত্তার, ওয়াহাব, বাদশাসহ সবাই জানেন। স্যার এ জন্য প্ল্যান তৈরি করে কাজ শুরু করার জন্য টাকা দেওয়ারও কথা বলেন।’