রপ্তানির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

গতিহীন প্রকল্পে জনবল নিয়োগে বাড়ছে ব্যয়

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিমুখী চামড়া, পাদুকা, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল শিল্প সম্প্রসারণে সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর মাধ্যমে খাতগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হয়েছিল। এজন্য ২০১৭ সালের আগস্টে ৯৪১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দক্ষ লোকবলের সংকটে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগোয়নি। এ অবস্থায় নতুন করে প্রকল্পের সংশোধনী এনে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় ৭১ কোটি টাকা বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন। 

জানা গেছে, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পে দুই বছরের মাথায় ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পটিতে নতুন কম্পোনেন্ট (অঙ্গ) অন্তর্ভুক্ত করায় খরচ বাড়ছে। কম্পোনেন্টের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় দক্ষ জনবল নিয়োগ। প্রকল্প অনুমোদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত দক্ষ জনবল ছিল না বলে প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি। ২০১৭ সালের ৯ আগস্টে প্রকল্পটি অনুমোদিত মূল ব্যয় ছিল ৯৪১ কোটি টাকা। এখন ৭১ কোটি টাকা বাড়িয়ে ব্যয় ১ হাজার ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। এ প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে বিশ^ব্যাংকের ৭৯০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল, এখন দেবে ৮৪০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে। এজন্য ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট বাণিজ্য বহুমুখীকরণের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য বেগম সাহিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের স্বল্পতা থাকায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিঘিœত হচ্ছে। এটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন আরও পরামর্শক প্রয়োজন। এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি নিয়ে প্রকল্পে চার পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও পাঁচ পরামর্শক জরুরি প্রয়োজন বলে জানায় মন্ত্রণালয়। এজন্য তা প্রকল্প সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে প্রকল্পের বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুসারে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল আজম এর আগে বলেছিলেন, বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কিছু কম্পোনেন্টে সংশোধনী আনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভার পরামর্শ অনুসারে সংশোধনও করা হয়েছে। এ সংশোধনী অনুমোদন পেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে।

দেশের সম্ভাবনাময় চার খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য প্রকল্পের আওতায় চারটি টেকনোলজি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুরসহ ১৩টি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর স্থান চূড়ান্ত করা হবে।