যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও করারোপ দুর্বার গতিতে ছুটে চলা চীনের অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরেছে। এর প্রভাবেই বছরের পর বছর ধরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধি মারাত্মক হারে কমতে শুরু করেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি তিন দশকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গতকাল সোমবার চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্স বলেছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা ১৯৯২ সালের পর সর্বনিম্ন। এর আগের প্রান্তিক জানুয়ারি-মার্চে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
চীনের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও (জুলাই-ডিসেম্বর) নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকবে দেশটির অর্থনীতি। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। গত বছর চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এ হিসাবে প্রতি বছরই দেশটির প্রবৃদ্ধি কমছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি করহার কমিয়েছে দেশটি। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়ছে চীনের অর্থনীতিতে।
বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন। এখন দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা আবারও শুরুর পরিকল্পনা করছেন।
হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত শুক্রবার জানিয়েছেন, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভেন নুচিনের সঙ্গে পেইচিং সফরে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লিথিজার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য সংকটের সমাধান দ্রুত হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে চীনের রপ্তানি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমার পাশাপাশি আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশ।
বাণিজ্যযুদ্ধ ও চীনের অর্থনীতির শ্লথগতি প্রভাব ফেলছে বিশ্বের কিছু বৃহৎ ব্যবসা ক্ষেত্রে। প্রবৃদ্ধি কমলেও গতি বেড়েছে চীনের শিল্প খাতে। গত মাসে দেশটিতে শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময় খুচরা বিক্রি বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।