রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পাখিমারা গ্রামের স্কুলশিক্ষক আজমত আলী। হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার ১৩ বছর পর আবার সেই মামলার কার্যক্রম শুরু হলে আদালত তাকে ফের কারাগারে পাঠায়। সেই থেকে নয় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন বৃদ্ধ আজমত আলী। অবশেষে তার মুক্তির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে কারামুক্তি পেতে যাচ্ছেন তিনি। তাকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে আজমত আলীর করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। গত ২৭ জুন আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত রায়ের অনুলিপি থেকে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল সোমবার এ অনুলিপি গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসে। সর্বোচ্চ আদালত আদেশে বলেছে, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও আজমত আলীকে আবার কারাগারে পাঠানো অযৌক্তিক ও অপ্রত্যাশিত।’ সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের আইনি সহায়তায় কারামুক্তি পাচ্ছেন আজমত আলী। বর্তমানে জামালপুর কারাগারে রয়েছেন তিনি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন আজমত আলী। ১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন নিহতের ঘটনায় তাকেও আসামি করা হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আজমত আলীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ারও সামর্থ্য ছিল না।
এ মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজমত আলীকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দেয়। বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। একই সময়ে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার জন্যও আবেদন করেন। আপিল বহাল থাকার সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান আজমত আলী। ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টেও রায়েও তিনি খালাস পান।
এরপর হাইকোর্টেও ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায় রহিত করে আজমত আলীকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারিক আদালতে হাজির হলে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন আজমত আলী। ২০১০ সালের ১১ আগস্ট আপিল বিভাগের রায়ে হাইকোর্টের রায়ে (খালাস) ও আদেশ রদ করে বিচারিক আদালতের রায় (যাবজ্জীবন) ও আদেশ বহাল রাখা হয়।
একপর্যায়ে আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। লিগ্যাল এইড কার্যালয় থেকে আজমত আলীর মামলায় যাবতীয় সহযোগিতা করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানান সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের সমন্বয়ক রিপন পৌল স্ক্রু। তিনি জানান, গত বছর অক্টোবরে বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়ে আজমত আলীর কারামুক্তির জন্য আইনি প্রচেষ্টা চালান। মামলার পর্যালোচনা সাপেক্ষে লিগ্যাল এইড কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিনউদ্দিন। রিপন পৌল স্ক্রু আরও জানান, এরই মধ্যে আদালতের রায়ের সংশ্লিষ্ট নথি জামালপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবারই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন আজমত আলী।