বিচারকের কক্ষে খুন

আদালতে নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা জানতে চায় হাইকোর্ট

কুমিল্লায় বিচারকের কক্ষে এক আসামিকে ছুরি মেরে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশে আদালতগুলোতে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তায় গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এছাড়া কুমিল্লার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিশ্চিতভাবেই গাফিলতি ছিল উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাও জানাতে বলেছে হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশে আদালত ও বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তার নির্দেশনা চেয়ে গত মঙ্গলবার আইনজীবী ইশরাত হাসান ওই রিট করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ইশরাত হাসান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। 

একটি হত্যা মামলার শুনানিকালে গত সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত তৃতীয় দায়রা জজ ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে এক আসামিকে ছুরি মেরে খুন করে আরেক আসামি। নিহত মোহাম্মদ ফারুক ও আঘাতকারী মোহাম্মদ হাসান মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। ফারুক সম্পর্কে হাসানের ফুফাতো ভাই।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলে, ‘আদালতের এজলাস কক্ষে লোকজন ছুরি নিয়ে ঢুকে যায়। বিচারকের খাস কামরায় এমন ঘটনা! তাহলে বিচারকদের নিরাপত্তা কোথায়? যদি বিচারক ও আদালতের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।’ হাইকোর্ট আরও বলে, ‘এখানে নিশ্চিতভাবেই পুলিশের গাফিলতি ছিল। পুলিশ আদালতে কী নিরাপত্তা দিচ্ছে?’

আদেশের পর আইনজীবী ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমনিতেই সাক্ষীরা আদালতে আসতে চায় না। এখন আদালতের ভেতরেই যদি মানুষকে খুন হতে হয় তাহলে সাক্ষীরা কেন আসবে? হাইকোর্ট সারা দেশের আদালত, বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে।’