মিয়ানমারে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

মিয়ানমারে সংবিধান সংশোধন করতে কার্যত নেতা অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেওয়া উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ করেছে কয়েকশ মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার ইয়াঙ্গুনে সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভ করে লোকজন। আবার সংবিধান সংশোধনের বিরোধিতা করে এদিন বিকেলে ওই শহরেই পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করেছে বিরোধীরা।

সু চির দল এনএলডির উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সংবিধান সংশোধন করা। তবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় ৩ বছর পর এ বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো সু চির দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হবে কি না, এ বিষয়ে ভোটাভুটি হয়। সেনাবাহিনী ভোটাভুটি বর্জন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি, সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও কয়েকটি জাতিগত দল বিতর্কে অংশ নেয়। তবে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় কোনো সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বকারী এমপির নাম ছিল না। বিতর্ক শেষে সংবিধান সংশোধন উদ্যোগ সফল করতে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয় মিয়ানমারের পার্লামেন্ট। সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ৩ হাজার ৭৬০টি প্রস্তাব সংবলিত একটি প্রতিবেদন গত সোমবার  মিয়ানমারের পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সংবিধান সংশোধনের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সু চির দলের কেউ নন। এদিন বিক্ষোভকারীরা মাথায় লাল রঙের কাপড় পরে ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় নামেন। ওই লাল কাপড়ে লেখা ছিল, ‘২০০৮ সালের সংবিধান সংশোধন করুন।’

বিক্ষোভের আয়োজক পিয়াই ফিয়ো জ বলেন, ‘বর্তমান সরকার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ২০০৮ সালের সংবিধান বহাল থাকার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।’ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর তদারকির দায়িত্ব নির্বাচিত নেতাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

কথিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের নামে মিয়ানমারে আদতে জারি রয়েছে সেনাশাসন। ২০০৮ সালে প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের যেকোনো প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হতে হলে ৭৫ শতাংশের বেশি সমর্থন প্রয়োজন। অথচ দেশটির পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনেও রয়েছেন সেনাবাহিনী মনোনীত ব্যক্তিরা। গণতান্ত্রিক সরকার বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে তাদের। সংবিধানে নাগরিকত্ব বিবেচনায় সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার অধিকারও ক্ষুণœ করে রাখা হয়েছে।