পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে তা ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে নোটিসে। এছাড়া মূল্য নির্ধারণ ও তা ঘোষণা করা না হলে এর
কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিস পাঠানো হয়।
খাদ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চেয়ারম্যান বরাবর এ নোটিস পাঠানো হয়েছে। ঈদুল আজহার আগেই পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সিসিএসের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল মোমিন এ নোটিস পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নোটিসপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
২৫ থেকে ৩০ টাকার পেঁয়াজ হঠাৎ করে কয়েক দিন যাবত রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাল, কাঁচামরিচ, আদা, রসুনসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে সম্প্রতি অনৈতিক ও অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এর মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে।
সিসিএসের সম্পাদক পলাশ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদে যেসব নিত্যপণ্যের চাহিদা বেশি থাকে যেমন পেঁয়াজ, আদা, মসলা ইত্যাদির দাম অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে ঈদের এক মাস আগেই বাড়িয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, সিন্ডিকেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। দাম না কমলে সরকার খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। যদি সিন্ডিকেট করেই পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়ে থাকে তাহলে সেটি দেখার দায়িত্ব তো সরকারেরই। সরকারই তো নির্ধারণ করে দিতে পারে যে নিত্যপণ্য এত টাকার বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে আইনি নোটিস দিয়েছি। যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবো।’