দশ বছর আগে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারিয়েছিলেন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান রিক্তা খাতুন। টাকার অভাবে বিএ পরীক্ষা দিতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অভাব-অনটনে বিষণœতার শিকার হয়ে গত মঙ্গলবার সকালে তিনি আত্মহত্যা করেন।
রিক্তা খাতুন (২২) যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেকের মেয়ে। তার বোন রাশিদা খাতুন জানিয়েছেন, তারা খুব গরিব। তার পিতা মারা যাওয়ার পর মা রহিমা খাতুন অন্যের বাড়িতে ওফসলের ক্ষেতে কাজ করে তাদের ৩ বোন ও ছোট একটি ভাইকে পড়ালেখা শেখানোর চেষ্টা করছেন। ছোট বোন রিক্তা খাতুন রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের বিএ শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। টাকার অভাবে বিএ পরীক্ষা দিতে না পারার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাশিদা খাতুন আরও জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সকালে যে কোনো এক সময় রিক্তা খাতুন ঘরের ভেতর আঁড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই মোকলেছুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠান। বুধবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রিক্তা খাতুন একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন ২০০৯ সালে। ওই বছর প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে রূপদিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে রিক্তা খাতুন দুই পা হারান। হাঁটুর নিচ থেকে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় তার চিকিৎসায় এলাকার হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন এবং রিক্তা খাতুনকে সুস্থ করে তোলার কাজে সহযোগিতা করেন। পরে পঙ্গু হয়ে গেলেও তিনি লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি। ছোট কন্যাকে লেখাপড়া শেখাতে পিছপা হননি হতদরিদ্র মা রহিমা খাতুনও। অনাহারে-অর্ধাহারে পরের বাড়ি ও ক্ষেতখামারে কাজ করে যা উপার্জন করেছেন তাই দিয়ে অতিকষ্টে লেখাপড়া শিখিয়েছেন রিক্তা খাতুনকে। তাকে বিএ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। কিন্তু জীবন সংগ্রামে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন হতদরিদ্র মা রহিমা খাতুন। বিএ ফাইনাল পরীক্ষার টাকা জোগাড় করতে না পারায় পরীক্ষা দেওয়া হয়নি কন্যা রিক্তার। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রিক্তা খাতুন। আর এ পরিণতি হিসেবে তিনি নিশ্চিত মৃত্যুকে বেছে নেন। নিজের ছোট একটি ঘরের ভেতর আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর সরকার বলেন, রিক্তার আত্মহত্যার কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।