কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনূর আক্তার তানিয়াকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় স্বর্ণলতা পরিবহনের মালিক আল-মামুনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঠখোলা
স্বর্ণলতা পরিবহনের মালিক মামুন গ্রেপ্তার
এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামুনকে গ্রেপ্তারের পর ওইদিনই সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান।
তিনি আরও জানান, এর আগে তানিয়া হত্যায় গ্রেপ্তার করা বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, তার সহকারী লালন মিয়া এবং স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই জবানবন্দিতে তারা জানিয়ে ছিল, বাসমালিক আল-মামুন তাদের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাসটির ব্যাপারে ভুল তথ্য দিতে প্ররোচিত করেছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া আল-মামুন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘোড়াদিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান মনিরের ছেলে।
নিহত শাহিনূর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ মে বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলেন তানিয়া। বাড়ির প্রায় কাছাকাছি আসার পর বাজিতপুরের বিলপাড় জামতলী এলাকায় চলন্ত ওই বাসটিতে দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। ধর্ষণ শেষে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয় তানিয়াকে। পরে স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক এবং সুপারভাইজার আল-আমিন তার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে চালানোর চেষ্টা করে।