অধ্যাপক ফারুক দুগ্ধশিল্পের যে উপকারটি করেছেন

উনিশ শতকে পুঁজির দৌরাত্ম্য নিয়ে জগৎখ্যাত একজন দার্শনিক বলেছিলেন, ‘একশ ভাগ মুনাফার জন্য পুঁজি সব মানবিক আইনকে পায়ে পিষে ফেলে, তিনশ ভাগ মুনাফা পেলে যেকোনো অপরাধের ঝুঁকি নিতে সে রাজি, এমনকি তাতে ফাঁসি দড়িতে ঝোলার সম্ভাবনা থাকলেও। সেই কথা আজও সত্য। পূর্ব-পশ্চিম যেকোন স্থানেই সামান্য ফোকর পেলেই সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পুঁজি মানবিকতার ধার ধারে না। তদারকি আর শাস্তির ভয় দেখিয়ে পুঁজিকে যাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা, তারাও যদি হয় তার সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য সাফাইকার, তখন মুনাফার লোভে অন্ধ মানুষরা কল্পনার অতীত যা কিছু চালিয়ে যেতে পারে, তাই আমরা বাংলাদেশে দেখছি।

২. যেকোনো সংকট উতরানোর প্রথম ধাপটি হলো সমস্যাটা স্বীকার করা, সমস্যার প্রকৃতিটা বোঝা। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে বাংলাদেশে এ যাবৎ যা চলেছে, তা হলো সমস্যার আদৌ কোনো অস্তিত্বকেই প্রাণপণে অস্বীকার করা। যদি যোগ্য গবেষণায় দশ বছর আগেই নিরাপদ খাবার নিয়ে এই আলোড়নটি হতো, তাহলে আমরা দশ বছর এগিয়ে থাকতাম এর প্রতিকারে। অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের গবেষণায় আমরা যেটুকু জেনেছি, তা আসলে আমাদের সদ্য বিকাশমান অথচ বিপুল সম্ভাবনাময় দুগ্ধশিল্প যেসব মারাত্মক গোপনচর্চা ও কারবারের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তার দৃশ্যমান অংশ মাত্র। এই শিল্পকে রক্ষার স্বার্থেই, এর বিকাশের সম্ভাবনার পুরোটা বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই শিল্পের ওপর মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই ভরসা তৈরি করাটা অসম্ভব কিছু না, যদি যোগ্য হাতে সততা আর পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দেশের দুধের বাজারের একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মোটামুটি দশ-এগারোটি প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রতিটির মধ্যেই মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর উপাদানের সন্ধান মিলেছে। এই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার দুটো কারণ থাকতে পারে, একটি ইচ্ছাকৃত ভেজাল, দ্বিতীয়টি দেশের পরিবেশের সামগ্রিক দূষণ। ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর দুধ উৎপাদন নিয়েই আগে আলাপ করা যাক। কৃষকপর্যায় থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত করা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত যেকোনো পর্যায়েই এই দূষণটি ঘটতে পারে। এগুলো নিয়ে রীতিমতো গবেষণা পরিষদ গঠন করে মাঠপর্যায় পর্যন্ত এর সবগুলো স্বরূপ উদ্ঘাটন করা দরকার। আমরা শুধু অল্প কয়েকটি লক্ষণমাত্র জানি। যেমন একটি হলো দুধে ডিটারজেন্টের উপস্থিতি ঘ্রাণেন্দ্রিয় শক্তিশালী এমন অনেকেই বলে থাকেন, দুধে সাবান সাবান গন্ধ! এখন আমরা জানতে পারছি, চর্বি-ময়দা প্রভৃতি দিয়ে বানানো ভেজাল দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হয় ফেনানো ভাবটা আনার জন্য। কিন্তু শুধু কৃষকপর্যায়েই না, প্রক্রিয়াজাত করার সময়ও ডিটারজেন্ট যুক্ত হতে পারে। কেননা, প্রতিবার সদ্য সংগ্রহ করা দুধ পাস্তুরিত করার আগে কাঠামোটাকে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া হয়, এটা করা হয় পাত্রের গায়ে লেগে থাকা দুধের অবশেষ যেন বাতাসের সংস্পর্শে এসে রূপান্তরিত না হয়। ডিটারজেন্ট মানবদেহের জন্য তীব্র ক্ষতিকর বলেই সেগুলোকেও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়ার কথা। সেটি যথাযথভাবে না করার দুটি কারণ থাকতে পারে, তাতে কর্মী নিয়োগ ও পানি-বিদ্যুতের খরচাটা কমে; প্রক্রিয়াজাতকারীরা কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা দুধ থেকে মাখনটুকু তো সরিয়েই নেন, ডিটারজেন্ট সেই ফেনার অভাবটা দূর করে। এখন কিন্তু কোনো কিছুকে আর অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা শুধু নিশ্চিত হয়েছি, প্রক্রিয়াজাতকারীরা মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য নানা ধরনের ভেজাল দুধ মানুষকে বছরের পর বছর ধরে খাইয়ে যাচ্ছেন।

৩. দুধের মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দায় কার? আইনি দিক দিয়ে সরকারের, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা দায়বদ্ধ, যেকোনো খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়মিতভাবেই পরীক্ষা করতে তারা বাধ্য। কিন্তু এই গুণগত মানটি অর্জন করতে পারে শুধু দুধ বিপণনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোই। এমনকি কৃষক ও উৎপাদকের মাননিয়ন্ত্রণও তাদের পক্ষেই শুধু সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্ভব। প্রক্রিয়াজাতকরণ তো পরের কাজ, আগে কৃষকপর্যায়ে দুধ সংগ্রহ করার সময় যদি তারা অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পরীক্ষা করে নেয়, তাহলেই তা সহজে সম্ভব। সহজে? খুব কঠিন হওয়ার কথা না। অজস্র ধরনের সহজে পরীক্ষা করার যন্ত্র পাওয়া যায়, যেগুলোর সাহায্যে সংগ্রহ কেন্দ্রেই ভেজাল দুধ চিহ্নিত করলে কৃষকরা নিজেরা এই কাজটি আর করবেন না। কিন্তু এই মাঠপর্যায়ের সংগ্রহ কেন্দ্রে যদি অসাধু কর্মকর্তা ভালো দুধের মাঝে এমন কিছু ক্ষতিকর দুধ মিশিয়ে দেন, সব দুধই ভেজাল হয়ে উঠবে। ফলে এই দায়িত্বটা প্রধানত বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পালন করতে হবে। এভাবেই কৃষকও খুব দ্রুতই দুধ উৎপাদনের বেলায় ক্ষতিকর কোনো চর্চা না করতে অভ্যস্ত ও সচেতন হয়ে উঠবেন। অভিজ্ঞতা বলে, সামান্যসংখ্যক কৃষকই এই ভেজালের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। বরং বড় ব্যবসায়ীদের দায়িত্বহীনতা, অসততা আর মুনাফার লোভই এ বিষয়টির জন্য প্রধানত দায়ী।

৪. অধ্যাপক আ ব ম ফারুক একটি সাক্ষাৎকারে অন্য একটি ভয়াবহ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন : এই অ্যান্টিবায়োটিক শুধু রোগ সারাতে আক্রান্ত গরুকে দেওয়া হয় না, বরং সুস্থ গরুর পশুখাদ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয়! এর কারণ একটি ভ্রান্ত ধারণা : এভাবে গরুর রোগ প্রতিরোধ করা যাবে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পশুখাদ্যের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক বা মোটাতাজাকরণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু অসুস্থ গরুর চিকিৎসায় তা ব্যবহার করা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দুধ ও মাংস শুধু দূষিত নয়, বরং তার গোবর ও মূত্রও বিশাল পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে। কেননা, এভাবে হরেদরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে দুনিয়াটা ভয়ংকর একটি নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে : অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু! বাংলাদেশে এক ধাপ বাড়িয়ে পশুদের জন্য ব্যবহার করা নিষিদ্ধ এমন অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো শুধু মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহার করা উচিত। দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেই এখানে

হস্তক্ষেপ করতে পারত বহু আগেই এবং এটা তাদের দায়িত্বও। এর ফলে একদিকে খামারির উৎপাদন খরচা বহু গুণ হ্রাস পেত, অন্যদিকে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ত না। এভাবেই দুগ্ধশিল্পের কাঁধে সওয়ার হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদকরা গোপনে বিরাট মুনাফা তুলে নিয়েছেন।

৫. প্রাকৃতিক যে দূষণের কারণে দুধ উৎসেই দূষিত হচ্ছে, সে বিষয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপণনকারী ভূমিকা রাখতে পারেন। সত্যি যে, সাভারের মতো যেসব অঞ্চলে কারখানাগুলো রাসায়নিক বর্জ্য দিয়ে জলমাটি দূষিত করছে, সেখানে এই কাজটা রাজনৈতিক-আইনি সংগ্রামের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এর বাইরে, দেশজুড়ে গোখাদ্য উৎপাদনে যে সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, সেগুলোর বিকল্প ব্যবহারে কৃষককে উৎসাহিত করাটা নিজেদের দূষণমুক্ত ভাবমূর্তি তৈরি করতেই এই প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করবে। মাটি কিংবা পানি থেকে যদি গোখাদ্যে ভারী ধাতব চলে আসে, সেগুলো দুধে ও মাংসে মিলবে। ফলে তাদের উদ্যোগেই জমিকে বিষমুক্ত করার কাজটায় অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। আক্ষরিক অর্থেই যারা শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করছেন, এই গবেষণা, সচেতনতা নির্মাণ ও উদ্বুদ্ধকরণে কিছু অর্থ খরচা করাটা তাদের জন্য কঠিন কিছু না।

৬. কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে কৃষক এবং বড় আকারে বিপণনকারী তাদের দায়িত্ব পালনে সৎ থাকছেন কি না, তার দায় নিতেই হবে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষকে। তাদের জনবলের অভাব ইত্যাদি অজুহাত মানুষ আর শুনতে চাইবে না বেশি দিন। কয়েক দশক ধরে আমরা শুনে আসছি, বাংলাদেশে চামড়াশিল্পের এক ভয়াবহ উপজাতের কথা, প্রক্রিয়াজাত এই বাড়তি চামড়াকে গুঁড়ো করে মাছ ও মুরগির খাবার বানানো হয়। চোখের সামনে ঘটা এই ভয়াবহ অপরাধটা দমন করতে আদৌ সক্ষম হয়েছেন তারা? অন্য একটা গুরুতর প্রশ্নও আসে সামনে : নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ আইনসংগতভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা। খাদ্য মন্ত্রণালয় নিজেই পচা চাল ও গম আমদানি করে এর আগে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অধীনস্থ একটি সংস্থা হয়ে তারা কি অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদক বা আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে? এমন সীমাবদ্ধতার কথাও আমরা শুনতে পেয়েছি। কাজেই নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষকে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে।

৭. বিদেশি দুধ সমাধান না। একদিকে দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে আমাদের দেশের বিপুল কর্মসংস্থান জড়িত, অন্যদিকে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একাধিক গবেষণায় বিদেশি নামিদামি দুধে মেলামাইন, সিসাসহ বিষাক্ত উপাদান মিলেছে। সে সময়গুলোতেও আমরা দেখেছি সামান্য কিছু আওয়াজ তুলেই বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়েছে। বিদেশি যেকোনো ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন, আমদানিকারক তা কোত্থেকে এনেছেন, কী অবস্থায় এনেছেন এবং তার সঙ্গে কী কী মিশিয়েছেন, তার নিশ্চয়তা দেওয়ার আসলেই কোনো উপায় নেই। বরং এর চেয়ে শতগুণে সহজ ও কার্যকর কাজ হলো দেশের দুগ্ধশিল্পকেই হাতুড়ির ঘায়ে হোক, আইনের ভয় দেখিয়ে হোক, সাময়িক বর্জন করে হোকÑ ঠিকঠাক করার রাস্তায় নিয়ে আসা। ইতিহাসে নানা সময়েই দেখা যায়, মানোন্নয়ন ছাড়াই মুনাফার মাত্রা অভাবনীয় বেশি হলে ব্যবসায়ীরা বহুক্ষেত্রেই পণ্যের উন্নতির চেষ্টা করে না। বাংলাদেশেই দেখুন, মাথাপিছু দুধ খাবার দিক দিয়ে আমরা দুনিয়ার মাঝে একদম নিচের সারির দেশগুলোর সঙ্গে আছি। গত বছরের বিশ্বখাদ্য সংস্থার একটি হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানুষ একদিকে দক্ষিণ এশিয়ার মাঝে সবচেয়ে কম দুধ খায়, অন্যদিকে দুধের দামও এ দেশে সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে যুক্ত করুন : প্রক্রিয়াজাতকারীদের মুনাফাও এ দেশে বিপুল, খোদ উৎপাদকরা সামান্য মুনাফা পেলেও বিপুল অনিশ্চয়তার শিকার। অথচ ভেজাল ও দূষণমুক্ত, এমন নিশ্চয়তা পেলে মানুষ অনেক বেশি দুধ খেত। সামান্য প্রচারণায় এটাকে জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বানানো সম্ভব, শুধু মধ্যবিত্ত নয়, নগরবাসী শ্রমজীবীরাও তখন দুধ খেতে অভ্যস্ত হতেন। চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে তখন অর্থনীতির নিয়মেই দুধের দামও কমে আসবে, কর্মসংস্থানও বাড়বে।

৮. জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিই সবচেয়ে কম সময়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর উপায়। বিষাক্ত উপাদানগুলো দিয়ে তৈরি করা পশুখাদ্য কিংবা ভেজাল খাবার সম্পর্কে মানুষকে জানান, উদ্বুদ্ধ করুন, তথ্য দিতে বলুন এবং তাদের প্রতিরোধে শামিল হওয়ার সুযোগ দিন। দেখবেন সামাজিক প্রতিরোধের মুখেই খাদ্য-অপরাধীরা পালানোর পথ পাবেন না। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের ভেজাল ও দূষণকারীরা মৌলিক কোনো প্রতিভা দেখাননি, এর সবগুলো দূষণই বাইরের দুনিয়ায় কোনো না কোনো সময় দেখা গেছে। সেগুলোর প্রায় অধিকাংশের সমাধান করা গেছে নাগরিকদের ভোটের অধিকার আর গণতন্ত্রের জোরে। উল্টোদিকে বাংলাদেশে আ ব ম ফারুকের ঘটনায় আমরা বরং আমলা-ব্যবসায়ীদের যে সংঘশক্তি দেখেছিÑ সেটাই বিপদকে দীর্ঘস্থায়িত্ব দিয়েছে।

‘জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিই সবচেয়ে কম সময়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর উপায়। বিষাক্ত উপাদানগুলো দিয়ে তৈরি করা পশুখাদ্য কিংবা ভেজাল খাবার সম্পর্কে মানুষকে জানান, উদ্বুদ্ধ করুন, তথ্য দিতে বলুন এবং তাদের প্রতিরোধে শামিল হওয়ার সুযোগ দিন। দেখবেন সামাজিক প্রতিরোধের মুখেই খাদ্য-অপরাধীরা পালানোর পথ পাবেন না। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের ভেজাল ও দূষণকারীরা মৌলিক কোনো প্রতিভা দেখাননি, এর সবগুলো দূষণই বাইরের দুনিয়ায় কোনো না কোনো সময় দেখা গেছে’

লেখক

রাজনৈতিক সংগঠক ও কলামনিস্ট