যমুনা নদীতে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তে সৃষ্টি হওয়ায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় কয়েকটি সিসি ব্লক সরে যাওয়ায় সেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে শহর ও এর আশপাশের গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় শহরবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নদী ভাঙনের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কেএম রফিকুল ইসলাম এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দিয়ে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যমুনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের হেড টি পয়েন্ট এলাকার পাশে কিছুটা দেবে যায়। এতে ওই স্থানের দু‘টি সিসি ব্লক সরে যায়। ফলে ওই স্থানে এ ফাটল দেখা দেয়। যমুনা নদীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় সব সময়ই তীব্র স্রোত থাকে। ফলে যে কোন সময়ই এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে। এতে এলাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধটি কেপিআই ভুক্ত এলাকা। এ বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর প্রবল স্রোত থাকায় বাঁধের লাঞ্চিং এপ্রোনে গিয়ে আঘাত করে। এতে ওই দু‘টি সিসি ব্লকের মাঝখানে একটি গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এ কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) মোতাহার হোসেন ও ঘাটাইল সেনানিবাসের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রয়েছে। বাঁধের কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তিনি এটি নিয়ে শহরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।