ভুল করলে মাশুল দিতে হবে জাতীয় পার্টিকে : কাদের

দল পরিচালনায় ভুল করলে জাতীয় পার্টিকে মাশুল দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ-পরবর্তী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দল যারা সংসদে বিরোধী দল, যাদের আসন সংখ্যাও একেবারে কম নয়। তারা বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। আজকে শুনতে পাচ্ছি তারা যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনা করবে। সবকিছু তাদের নিজেদের ব্যাপার, নিজেদের সিদ্ধান্ত। আমরা সব সময়ই বলি রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে, যারা সময়োপযোগী রাজনীতি খুঁজে নিতে পারবে। যুগের দাবির রাজনীতিকে যারা আলিঙ্গন করবে, তাদের হারিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।’

‘সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুদকের চেয়ারম্যান, তিনি কী বলেছেন আমার ঠিক জানা নেই। তবে আমি দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখতে চাই। করাপশন ইজ করাপশন। আপনি করাপশন করবেন, অনিয়ম করবেন এটাকে করাপশন হিসেবে দেখতে হবে। করাপশনের দ্বিতীয় কোনো ব্যাখ্যা নেই। দুর্নীতি দুর্নীতিই। দুর্নীতিকে আমরা দুর্নীতি হিসেবেই দেখব।’

তিনি বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যান এখন সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেই বিষয়টি তার কাছে আমার জানতে হবে। দুর্নীতি দুর্নীতিই, এর আলাদা কোনো ব্যাখ্যা নেই। এর আলাদা কোনো সংজ্ঞা নেই।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘করাপশন এখন সারা দুনিয়াতে হচ্ছে। কোথাও বেশি কোথাও কম। কোথাও দুর্নীতিটাকে বেশি করে দেখানো হয়। এখানে পলিটিক্যালি মোটিভেটেড বিষয় আছে যে, আমি কাউকে পছন্দ করি না তাই তাকে ঢালাওভাবে করাপ্ট বলে সাব্যস্ত করা। এটা ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের ধারা।’

সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম হাতে নেবে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টা আমাদের গত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতা এই বিষয়গুলোকে ট্যাকল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিকভাবে কঠোর হস্তে দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’

স্বৈরশাসক এরশাদকে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছেÑ বিএনপির এমন সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এটা, পৃথিবীতে অনেক স্বৈরাচার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কিন্তু এরশাদ সাহেব যখনই বিদায় নিয়েছেন, পতনের পরপরই তিনি পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে পাঁচ আসনেই জিতেছেন। এখন পার্লামেন্টে ইলেকটেড যে মেম্বার, আমি তার অস্তিত্বকে, অস্তিত্বের বাস্তবতাকে কীভাবে অস্বীকার করব। এরশাদের দল সংসদে ৩০-৪০ সিট নিয়ে আছে, পার্লামেন্টে তাদের একটা রোল থাকে, বিরোধী দলের ভূমিকা তারা রাখছেÑ এই অবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিকে আমি কীভাবে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন জিয়াউর রহমান সাহেব কীভাবে এসেছেন, সেটাও তো ভাবতে হবে।’

বন্যাদুর্গতদের পাশে দলীয় নেতাকর্মীদের দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা স্টেপ নিতে শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে বলে গেছেন, সরকারিভাবেও ব্যবস্থা নিতে। তিনি আমাকেও বলে গেছেন, পানিসম্পদ, নৌপরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ যারা দায়িত্বে আছেন তাদের নিয়ে টিম গঠন করতে। আজকে সিলেট ও গাইবান্ধাতে আমাদের প্রতিনিধিরা গেছেন। আমরা কালকে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় টিমওয়ার্ক করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।