ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে হতে পারে তিন সিটির ভোট

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বরে অথবা জানুয়ারিতে এই তিন সিটিতে ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে আলোচনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল গত মার্চে হওয়া উপজেলা নির্বাচন বর্জন করে। তবে সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আগামীতে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, তিন সিটিতে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরাই এবারও মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। 

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ভোট হয়। এতে নির্বাচিত হন যথাক্রমে প্রয়াত আনিসুল হক, সাঈদ খোকন ও আ জ ম নাছির উদ্দীন। তবে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে প্রথম সভা করায় সংশ্লিষ্ট করপোরেশনের মেয়াদও পূর্ণ হবে ভিন্ন দিনে। সে অনুসারে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ ২০২০ সালের ১৩ মে, দক্ষিণের মেয়াদ ১৬ মে আর চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ২৫ জুলাই। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট করতে হবে।

ইসির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই তিন সিটি নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করা হলেই মূল প্রস্তুতি শুরু হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে কমিশন সভার সিদ্ধান্তের ওপর। এ ছাড়া তিন সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। 

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল আর ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট দিয়ে মার্চে চট্টগ্রামে ভোট করার চিন্তা রয়েছে।

ইসির নির্বাচন শাখার আরেক কর্মকর্তা বলেন, আগামী বছরের এপ্রিলের দিকে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটিতে একই দিনে ভোট করার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ মার্চ ভোটার দিবসের পরপরই তফসিল দেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিতে পারে ইসি সচিবালয়। তবে সবকিছু নির্ভর করছে কমিশন সভার সিদ্ধান্তের ওপর।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে বলা আছে, প্রথম সভার দিন ধরে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন আয়োজন করতে আমাদের দুই মাসের বেশি সময় লাগে না। এই নির্বাচন নিয়ে কমিশন সভায় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তাহলে আমরা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্তেই থাকব।’

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকার নানা বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখছেন তারা। তালিকা হালনাগাদ নিয়ে কিছুটা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ডিসেম্বরে ভোট হলে পুরনো ভোটার তালিকা দিয়ে যাতে ভোট করা যায় সে প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। আর মার্চ-এপ্রিলে হলে নতুন ভোটার তালিকায়ই ভোট হবে।

ইসির বাজেট শাখার কর্মকর্তা বলেন, সরকারের কাছে চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল; পাওয়া গেছে ৩১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় দাগে ব্যয় হবে তিন সিটি নির্বাচনে। ১৫০ কোটি টাকা সর্বোচ্চ ব্যয় ধরে নিয়ে হিসাব করা হয়েছে। আর বাকি টাকা অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচন ও সংসদের উপনির্বাচনে ব্যয় করা হবে। গত ৫ মে ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আসন্ন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।