সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বাথান ও পাথার এলাকায় আগের মতো মহিষের গাড়ি চোখে পড়ে না। একসময় শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকার মানুষ ধান, চাল, পাটসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহনে মহিষের গাড়ি ব্যবহার করত। এখন মহিষের গাড়ির জায়গা দখল করে নিয়েছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি, করিমন, নছিমন, অটোভ্যান, পিকআপ ভ্যানসহ নানা যান্ত্রিক পরিবহন। ফলে বিল, বাথান ও পাথার এলাকায় আগের মতো মহিষের গাড়ি চোখে পড়ে না বললেই চলে। মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও তা আসে ভাঙ্গুড়া বা অন্য কোনো স্থান থেকে। ফলে শাহজাদপুর উপজেলায় মহিষের গাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গত প্রায় এক দশক ধরে ধীরে ধীরে এ পরির্তন এসেছে, মূলত যান্ত্রিক বাহন প্রবেশের কারণে।
এ ব্যাপারে জামসাদ ও আমজাদ আলী নামে দুই মহিষের গাড়িয়াল জানান, আগে সারা বছর গাড়ি বাইতেন। এখন শুধু ইরি-বোরো ধান কাটার সময় কাজ করেন। আর সারা বছর বেকার বসে থাকেন। এ দুই গাড়িয়াল আরও বলেন, ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু হলে ভাঙ্গুড়া থেকে এসে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ও কায়েমপুর ইউনিয়নের রাউতারাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কাটা ধান পাথারের জমি থেকে বাড়িতে এনে দিই। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সারা বছর চলি। আগে চলনবিল অঞ্চলের অন্তত ১০টি উপজেলার শতাধিক গ্রামে এ কাজ করতাম। এখন সবাই ভটভটি, করিমন, নছিমন দিয়ে এ কাজ করায়। ফলে আমাদের চাহিদা কমে গেছে। এতে আমরা চরম অভাবের মধ্যে দিনযাপন করছি।
এ ব্যাপারে রাউতারা গ্রামের কৃষক আকবর আলী, খোকন ম-ল ও চরাচিথুলিয়া গ্রামের সোহেল ম-লসহ বেশ কজন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যান্ত্রিক পরিবহনে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে সহজে পরিবহন করা যায়। তাই এই এলাকা থেকে মহিষ, গরু ও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। যারা এখনো এ পেশা বদলায়নি, তারা বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পুরবি সংগীত বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, যেসব মষিয়াল এখনো টিকে আছেন তাদের বিভিন্ন সরকারি পরিবহন কাজে ব্যবহার করে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান, মহিষের গাড়ি যাতে এ অঞ্চলে টিকে থাকে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।