ছোট, চিকন ও সুঘ্রাণযুক্ত বাংলাদেশি চালের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে। এশিয়ার দেশগুলোর বাইরে ইউরোপেও বাংলাদেশি সুগন্ধি চালের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চাহিদা বাড়ায় প্রায়ই রপ্তানিকারকরা ছুটছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন পেতে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের লোকজন বেশি রয়েছে, সেখানেই বাড়ছে সুগন্ধি চালের চাহিদা। তারা এসব চাল ব্যবহার করে পিঠা-পায়েস ছাড়াও বিরিয়ানি, খিচুরি, জর্দাসহ নানা খাবার তৈরি করছেন। প্রবাসীদের দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নাগরিকরাও এ চাল খেতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে ওইসব দেশে বাংলাদেশের সুগন্ধি চালের চাহিদা বাড়ছে। এর বাইরে এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি বাড়াতে নীতিমালা শিথিল করার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ২৫ প্রজাতির সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালে সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ২০১২ সালে আবার সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ দেয় সরকার, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ৬ মাসে কী পরিমাণ চাল রপ্তানি করতে পারবে, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আগাম অনুমোদন নিতে হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে ৫ হাজার ৬২টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ২১০ টন। সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে। এসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও এশিয়ার অন্যান্য দেশের জনগণ প্রধান গ্রাহক। বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম বাবু জানান, পশ্চিমা দেশের নাগরিকদের কেউ কেউ এখন সুগন্ধি চাল খাচ্ছেন। সিঙ্গাপুর, আমেরিকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সুগন্ধি চাল আমদানি করছে। তিনি বলেন, দেশে যেহেতু চাহিদার চেয়ে বেশি সুগন্ধি চালের উৎপাদন হচ্ছে, সেহেতু রপ্তানির ক্ষেত্রে আগাম অনুমোদন ব্যবস্থা তুলে নিলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়বে।