বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অ্যালার্মিং অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতকাল শনিবার সংস্থাটির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের
এ কথা জানায়। সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ডা. এডউইন স্যালভাদর বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অ্যালার্মিং, তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চাই। এরই অংশ হিসেবে মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছি। দুই পক্ষের তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। কীভাবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে সমস্যার সমাধান করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
স্যালভাদর আরও বলেন, ‘যে জায়গাগুলোতে সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধান বের করতেই কাজ করব আমরা। আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এবং বাংলাদেশে ডেঙ্গুর আগের বছরের চিত্র দেখলে দেখা যায়, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার দিক থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল। তবে মহামারী বা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু এখনো হয়নি।’
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট দিয়েছি। যেমন আমাদের ওষুধগুলো কার্যকর কি না, ওষুধে কোনো পরিবর্তন দরকার কি না, নতুন ওষুধ প্রয়োজন হবে কি না, এসব বিষয়ে আমাদের অতি দ্রুততম সময়ে জানাবেন।
তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। তবে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সচেতন থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মেয়াদোত্তীর্ণ বা অকার্যকর ওষুধ ব্যবহার সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আমরা নৌবাহিনীর সরবরাহকৃত ওষুধ ব্যবহার করে থাকি। ওষুধে কোনো সমস্যা থাকলে আমরা দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এডিস মশা কখনো বাইরের ময়লায় বা ড্রেনে হয় না। এটা হয় পরিষ্কার সাদা পানিতে। তাই এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার ৩৩ হাজার বাড়িতে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করি এবং এটি ধ্বংস করার উপায় শিখিয়ে দিয়ে আসা সত্ত্বেও পরে সেই বাড়িতে পরিদর্শনে গেলে পূর্বের সেই একই পরিস্থিতি দেখতে পাই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’