ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে দেশের মানুষের কাছে এ সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। তাই বন্যার পর বানভাসি মানুষ তাদের দেখা পাচ্ছে না। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে আদালতের ভেতরে কুপিয়ে মানুষ খুন করা হচ্ছে, সাত বছরের শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন
গড়ে তুলতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, একই সঙ্গে বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারকে বিদায় করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে না। তাই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমদ সড়কে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত এ সমাবেশ হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে এটি ছিল প্রথম কোনো বড় কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি দুই সপ্তাহ আগে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও পুলিশের অনুমতি পেতে বিলম্বের কারণে সমাবেশ হবে কি না তা নিয়ে দোলাচলে ছিল দলীয় নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুর থেকে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেøাগানে সেøাগানে মুখর করে তুলেন সমাবেশস্থল। সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন। কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে নুর আহমদ সড়কের একপাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, মীর মো. নাসির উদ্দিন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, এস এম ফজলুল হক, গোলাম আকবর খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্তর সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নেতা নন, তিনি সারা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেতা। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এদেশে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় প্রায় দেড় বছর কারাবন্দি করে রাখা হয়েছ। অসুস্থাবস্থায় তিনি এখন ঠিকমতো খেতে পারেন না, হাঁটাচলা করতে পারেন না। বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে জ্বালানি, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা ব্যাংক লুট করে সাধারণ মানুষের টাকা মেরে খাচ্ছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশকে চরম মাত্রায় দলীয়করণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমকেও নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের সাধারণ জনগণের কাছে যাওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপি মহাসচিব।