বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাসের (৫৪) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা রয়েছে বলে মনে করছেন তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর সেখানকার (সদর-নেছারাবাদ-নাজিরপুর) এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, তার এ বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা ‘শারি’ নামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘দলিত কণ্ঠ’র প্রকাশক ও সম্পাদক। নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের মেয়ে প্রিয়া সাহার শ্বশুরবাড়ি যশোরে। তার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তরে সহকারী উপপরিচালক পদে কর্মরত। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বসবাসরত এই দম্পতির দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রিয়া সাহা গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না, থাকতে চাই।’
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নাজিরপুরের একজন হিন্দু বা অন্য কোনো সম্প্রদায়েরর লোক গুম বা নিখোঁজ হননি। প্রিয়া বালার বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নষ্টের উসকানিমূলক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় হিন্দুরা জানান, গত ৩ মার্চ উপজেলার চরবানিয়ারীতে প্রিয়া সাহার ভাই জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাসের একটি অব্যবহৃত ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রিয়া সাহা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য তার ভাইয়ের জমি ও বলেশ্বর নদীর চর নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলমান লোকজনকে হয়রানি করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার কারণে তাদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়া ও নিজে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আশাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, ‘নাজিরপুরে কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন বা গুমের ঘটনা নেই। প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ও উসকানিমূলক।’
উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নাজিরপুর উপজেলা একটি শান্তিপ্রিয় উপজেলা। এ উপজেলায় কোনোদিন কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’
পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘পিরোজপুরের পুলিশ প্রশাসন সাম্প্রদায়িক যেকোনো বিষয়ে সব সময়ই গুরুত্বের সঙ্গে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নাজিরপুর উপজেলা বা পিরোজপুর জেলার কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে কেউ চেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হস্তে তা দমন করবে। দেশের বাইরে গিয়ে যেকোনো নাগরিকের উচিত দেশের বিষয়ে ভেবেচিন্তে কথা বলা।’