সাভারের হেমায়েতপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে এক ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা মেয়েটিকে উদ্ধার করে পাশের জামাল ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
রবিবার বিকেল ৫ টার দিকে হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ী বেপাড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে ওই ছাত্রী শঙ্কা মুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জামাল উদ্দিন।
আহত ওই স্কুল ছাত্রীর নাম ঝুমুর বেগম (১৫)। সে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ী এলাকার নূর হোসেনের মেয়ে। ঝুমুর জয়নাবাড়ী প্রিক্যাডেট স্কুলে দশম শ্রেণির বাণিজ্য শাখার ছাত্রী বলে জানিয়েছে পরিবারের লোকজন।
ঝুমুরের মা শাহানাজ আক্তার বলেন, ঝুমুর দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে দুই জন বোরকা পরিহিত লোক তার নাম এবং বাড়ির কথা জানতে চায়। এসময় ঝুমুর তাদের কথার উত্তর দিয়ে দ্রুত বাসায় চলে আসে। বিষয়টি আমাকে বলায় এবং সে ছেলেধরা বলে ভয় পাওয়ায় বিকেল তিন টার দিকে আমি তাকে কোচিংয়ে দিয়ে আসি। এরপর বিকেল ৫টার দিকে সে বাসায় ফেরার পথে বেপারীপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে আসলে আবারও বোরকা পরিহিত লোক দুটি তার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে ঝুমুর একটা গলির ভেতরে ঢুকে পড়লে তার মুখ চেপে ধরে পেছন থেকে গলায় ছুড়ি চালায় এক বোরকা পরিহিত ব্যক্তি। এ ঘটনায় ঝুমুর কোন রকমে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং গলায় ছুড়ি চালানো ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।
এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে আসেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সময়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা আসলে একটা গুজব। মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য একটি মহল এই অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, মেয়েটির গলায় ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪ ইঞ্চি লম্বা এবং হাফ ইঞ্চি ডিপ হয়েছে। তবে ওটিতে নিয়ে সেলাই দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ আছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, কে বা কারা এক স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা গুজব বলে মানুষকে খেপিয়ে তুলছে। তবে এঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।