প্রবাসীদের আয়ের অর্থ ওয়েজ আর্নার্স বন্ডে বিনিয়োগের জন্য তাদের উৎসাহিত করতে বিদেশে রোড শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ জন্য বিভিন্ন দেশে মেলারও আয়োজন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে বন্ডগুলোর ব্র্যান্ডিং করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হবে।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ বিনিয়োগে টানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজার ও বীমা খাতে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর থাকলেও ওয়েজ আর্নার্স বন্ডে কোনো ধরনের উৎসে কর নেই। এই বন্ড সম্পর্কে প্রবাসীদের কাছে ব্যাপক প্রচার চালানো সম্ভব হলে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে। প্রচার চালানোর জন্যই বিদেশে বিনিয়োগ মেলা ও রোড শোর আয়োজন করা হবে। প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য চালু করা বন্ডের জন্য একটি একক ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে, একটি ব্লগ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য। বন্ড বিক্রি বাড়ানোর জন্য কার্যকর কৌশল নির্ধারণের উদ্যোগও নেবে সরকার। এ জন্য সম্ভাব্য ক্রেতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে একটি বেনিফিসিয়ারি সার্ভে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। প্রতি বছর ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। তবে এর বড় অংশই অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বিনিয়োগে ব্যবহৃত না হয়ে সাধারণত পারিবারিক ভরণপোষণ, জমি কেনা ও নতুন বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়। এ অবস্থায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগে আনতে ৩ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বিনিয়োগে আনার বিষয়ে এ বি এম রুহুল আজাদ জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিত করাসহ রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করা সম্ভব হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
বর্তমানে বিদেশ থেকে দেশের আত্মীয়স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ হয় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা পাঠাতে ৫ টাকা খরচ হয় তাদের। এটি কমিয়ে ৩ টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
সভায় ছুটির দিনসহ সপ্তাহে সাত দিনই যাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তার স্বজনরা সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বৈধ চ্যানেলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সাত দিনই বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তাদের আত্মীয়স্বজনদের পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য বিকল্প সার্ভিস ডেলিভারি চ্যানেল-মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। প্রবাসীরা যাতে সহজে বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও গ্রিসে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর পূর্ণাঙ্গ রিটেইল ব্যাংকিং চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
যেসব দেশে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর শাখা, সাবসিডিয়ারি ও এক্সচেঞ্জ হাউজ চালু রয়েছে, সেসব দেশে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। রেমিট্যান্সের জন্য সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর শাখা, সাবসিডিয়ারি ও এক্সচেঞ্জ হাউজ চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।