বেগমগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলে কিশোর গ্যাং এখন বেপরোয়া। তাদের চাঁদাবাজির টার্গেট প্রবাস থেকে আসা লোকজন ও তাদের পরিবার এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা। প্রবাসীরা বেগমগঞ্জ পুলিশের কাছে থেকে কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বেগমগঞ্জের ৪ নম্বর আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নিজাম উদ্দিন ওরফে দস্যু নিজাম ওরফে ফেনাঘাটা নিজাম তার বাহিনীর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি করেছে। এ গ্যাংয়ে রয়েছে রাজীব, সজীব, সুমন, মাইন, পাটওয়ারী সাগরসহ ১২ থেকে ১৪ জন কিশোর সন্ত্রাসী। এ সন্ত্রাসীরা মাদক ব্যবসা ছাড়াও প্রবাস থেকে কেউ এলে তাদের টার্গেট করে নির্ধারিত হারে চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা না দিলে তাদের বাড়িতে ককটেলের বিস্ফোরণ ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং প্রবাসীদের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে তাদের আটক করে হাতঘড়ি, মোবাইল সেট ছিনতাই করে নেয়। অনেক সময় ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিও করে থাকে।
প্রবাসী মনা মিয়া জানান, তিনি নিজামের কিশোর গ্যাংয়ের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দেওয়ায় মিয়াপুরের কামালের দোকানে তাকে আটক করে। পরে তিনি প্রাণপণে দৌড়ে জীবন রক্ষা করলেও এ বাহিনী তার রামপুরের বাড়িতে হামলা করে।
মনা মিয়া আরও জানান, এ গ্যাংয়ের রাজীব ও সজীব বেশ কয়েকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। সাগর পাটওয়ারী, সুমন, মাইনরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, কৃষি বিভাগের নারী মাঠ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগে মাঠকর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, তারা গ্রামের উঠতি বয়সী ছেলেদের মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করে। যারা তাদের কথা শুনবে না তাদের মাদক দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেবে বলে হুমকি দেয়। এদের গডফাদার ফেনাঘাটা নিজাম ও জগদীশপুরের সোহাগের সঙ্গে থানা-পুলিশের কিছু সদস্যের সখ্য থাকায় ভয়ে সাধারণ মানুষ তাদের চাঁদা দিলেও মুখ খুলতে সাহস করে না। এই গ্যাংয়ের কাছে রয়েছে তিন থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল। এরা দিনরাত ফেনাঘাটা, আমিন বাজার, রামপুর চৌরাস্তা, জগদীশপুর, করিমপুর, বারইচতল, জনকল্যাণ হাই স্কুল, সুলতানপুর হাই স্কুল ও কলেজ, রামনগর স্কুল, ফাজিলপুর স্কুল এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের ভ্যানিটি ব্যাগ, ওড়না ইত্যাদি টেনে নিয়ে যায়। মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌমুহনী কলেজের এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, এ ব্যাপারে পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ যদি অভিভাবকদের বলে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে’ তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়।
এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম বলেন, ‘এ গ্যাংয়ের কথা পুলিশের নলেজে রয়েছে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছে। তবে অভিভাবকদেরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।