পাবনার চাটমোহর উপজেলার হিয়ালদহ গ্রামে সেতুর সংযোগ সড়কের অভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে একটি স্কুলের দুই শতাধিক শিশুশিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। শুকনো মৌসুমে নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষার পানি প্রবেশ করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সবাই।
স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র সেতুতে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করায় প্রতিদিন খালের পানি পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আর নীরবে দর্শকের মতো চেয়ে চেয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনÑ এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে ঠিকাদার দোষ চাপাচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের ওপর।
জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের হিয়ালদহ গ্রামে সিঅ্যান্ডবি খালের ওপর ৭২ ফুট দীর্ঘ পুরনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৯ টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি ৩২ ফুট সেতু নির্মাণ করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। সেতু নির্মাণের কাজ পায় সুজানগর উপজেলার মেসার্স কনক এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে কাজটি তারা কেরামত আলী বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক ঠিকাদারকে দিয়ে করান।
প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু সংযোগ সড়কে মাটি না ফেলায় দেখা দিয়েছে বিপত্তি। যে কারণে সেতুর পাশেই হিয়ালদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে খালের পানির মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করছে। স্কুলের পোশাক ও বই পানিতে ভেজাসহ নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, খালের পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই স্কুলের নারী শিক্ষকরাও। এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এ ছাড়া ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেই খালে পানি বৃদ্ধির কারণে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করেন অভিভাবকরা। অতিসত্বর সেতুতে সংযোগ সড়কের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে জানতে মেসার্স কনক এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ঠিকাদার কেরামত আলী বিশ্বাস কাজল বলেন, ‘জায়গাটিতে আগে ৭২ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ ছিল। সেখানে ৩২ ফুটের ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। কী পরিমাণ মাটি লাগবে এটা না মেপেই প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস টেন্ডার দেয়।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসান বলেন, নতুন করে আবার সেখানে প্রকল্প দিয়ে মাটি ফেলে ব্রিজটি এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করা হবে।