রাউন্ড আর্ম অ্যাকশনের ওরকম ভয়ংকর ইনসুইং ইয়র্কার একদিনের ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না। কারণ ২৬ জুলাই শেষ একদিনের ম্যাচ খেলে অবসরে যাচ্ছেন লাসিথ মালিঙ্গা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার। অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনারও। তাছাড়া এত ভালো ডেড ওভার বোলিংও কয়জন করতে পারেন এখনকার ক্রিকেটে?
মালিঙ্গা টেস্ট ক্রিকেট ছেড়েছিলেন ২০১১ সালে। যখন তার বয়স মাত্র ২৭ বছর। যখন তিনি ফর্মের মধ্যগগনে। সেই সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে প্রায়ই ভুগতেন। হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারকে প্রলম্বিত করতে হলে টেস্ট ছাড়তে হবে। ছেড়েছিলেনও। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের জন্য ঘরে-বাইরে সমালোচনাও হয়েছিল। কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নিন্দুকেরা বলেছিল, টি-টোয়েন্টি লিগের প্রচুর টাকার হাতছানির কারণেই টেস্ট ছেড়ে দিয়েছেন মালিঙ্গা। যাহোক, ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের জার্সি গায়ে ১৫ বছর খেলে কমিটমেন্টের যথেষ্ট প্রমাণ রেখেছেন এ ফাস্ট বোলার। শ্রীলঙ্কার হয়ে ২২৫ ওয়ানডে খেলেছেন। নিয়েছেন ৩৩৫ উইকেট। ৫ উইকেট নিয়েছেন আটবার। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে। অল্প রানের পুঁজি সম্বল করেও সেদিন জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। আসল কারণ বুড়ো মালিঙ্গার ভেল্কি। সেদিনও ইনসুইং ইয়র্কারে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষকে। মালিঙ্গা ২১৯ ইনিংসে ৩৩৫ উইকেট নিয়ে মুত্তিয়া মুরালিধরন আর চামিন্দা ভাসের পরে আছেন। লঙ্কানদের হয়ে ৫২৩ উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিন জাদুকর মুরালিধরন। আর ভাসের উইকেটসংখ্যা ৩৯৯। ফলে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি লঙ্কান বোলারদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে মালিঙ্গা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কলম্বোতে ২৬ জুলাই শেষ একদিনের ম্যাচ খেলবেন তিনি। প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম কি একটু আনমনা হয়ে যাবে? লঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পেস বোলারের বিদায়ে মন খারাপ হওয়ারই কথা। তবে তার শূন্য জায়গা পূরণ করার একটা সুযোগও আসবে তরুণদের সামনে। তাই হয়তো শ্রীলঙ্কা দলের প্রধান নির্বাচক অশান্তা ডি মেল বলেছেন, ‘একদিনের ক্রিকেট থেকে মালিঙ্গার অবসর আমাদের সামনে অসাধারণ একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। আমরা পরের প্রজন্মের পেসারদের খুঁজে পরিচর্যা করতে পারব।’
কিছুদিন পরেই ৩৬ বছরে পা রাখবেন মালিঙ্গা। জানিয়ে দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন না। তাই লঙ্কার জার্সি গায়ে তাকে মাঠে দেখার আশাও থাকছে। আর আইপিএল, বিপিএলের মতো টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় তো আরও কয়েক বছর খেলবেন তিনি। ফলে দেখা যাবে সেই ভয়ংকর ইনসুইং ইয়র্কার।