সময় বাড়ল ৭ দিন

রাসেলকে ক্ষতিপূরণের প্রথম কিস্তি দেয়নি গ্রিনলাইন

গ্রিনলাইনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকারচালক রাসেলকে ক্ষতিপূরণের প্রথম কিস্তির ৫ লাখ টাকা দিতে এক সপ্তাহ সময় পেল গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক এক সপ্তাহের সময়ের আবেদন করলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদন মঞ্জুর করে আগামী রবিবার পর্যন্ত সময় দেয়। আদালতে ক্ষতিপূরণের পক্ষে শুনানিতে

ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা এবং রিটকারী আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত ২৫ জুন এক আদেশে রাসেলকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে নয় মাসে অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রতি মাসের ৭ তারিখে টাকা দিয়ে ১৫ তারিখে এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা ছিল আদেশে। তবে গত ১৬ জুলাই এ সংক্রান্তে শুনানির ধার্য দিনে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। ওই দিন গ্রিনলাইনের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান পরিবহনটির আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ। এরপরই শাহ মঞ্জুরুল হককে নিয়োগ দেয় গ্রিনলাইন পরিবহন। গত ১০ এপ্রিল এই বেঞ্চের এজলাসে রাসেলের হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেয় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। অবশিষ্ট টাকা দফায় দফায় আদায়ের সময় দেয় হাইকোর্ট।

গত বছর ২৮ এপ্রিল রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দোলাইরপাড় এলাকায় গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসের চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারের (২৩) পায়ের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেয় চালক কবির মিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাসেলের বাম পা কেটে ফেলতে হয়। ওই দিনই গ্রিনলাইনের চালক কবিরকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি নিম্ন আদালত থেকে জামিন পায় কবির।

এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে গত ৩১ মার্চ এক আদেশে রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে গেলেও সে আবেদন টেকেনি।