নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকার ৪ বছরের শিশু শিহাবউদ্দিন আলিফ হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি অহিদ মিয়ার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আনিসুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সারাদেশে যে হারে গুম খুন হচ্ছে সে বিবেচনায় স্পর্শকাতর ও দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো গুরুত্ব সহকারে পরিচালনা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
নিহত আলিফের মা সালমা বেগম কান্নাজড়িত বলেন, আমি এই রায়ে খুশি এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট বাড়ির সামনে দুপুরে খেলা করার সময়ে নিখোঁজ হয় আলিফ। বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী আলী খোকনের বাড়ির নীচতলার ভাড়াটের তালাবদ্ধ রুম থেকে এলাকাবাসী বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে আলিফের লাশ। এসময় আলিফের দুই হাত বাঁধা ও মুখে রুমাল গুঁজে দেওয়া ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও ছিল।
আগের দিন দেশে ফিরে আসা নিহতের বাবা সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে পরদিন ১৭ আগস্ট সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
৩১ আগস্ট অহিদকে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে ঘাতক অহিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।
ঘাতক অহিদ আদালতকে জানান, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তার অর্থের প্রয়োজন ছিল বিধায় তিনি আলিফকে অপহরণ করেছিলেন। কিন্তু পরে জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি আলিফকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে রেখে পালিয়ে যান।