রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমে আসছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, খেলাপি ঋণ কমার কারণে সরকার নিরাপদে আছে এবং সরকারি ব্যাংক খাতে কোনো সমস্যা নেই।
গতকাল সোমবার বিকালে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক এবং বিশেষায়িত আট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল এবং বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে বাস্তবায়ন অগ্রগতি জানতে এ বৈঠক ডাকেন মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা তাকে জানিয়েছেন যে, সব ব্যাংকই ঋণের সুদহার শতভাগ সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর করেছে। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংক খাতে সমস্যা নেই। খেলাপি ঋণ কমে আসছে। ব্যাংকগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছে তাদের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এখন থেকে তিন মাস পরপর ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক করা হবে। যেখানে ব্যাংকগুলো অগ্রগতি তুলে ধরবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি শপথ নেওয়ার সময় বলেছিলাম বাড়বে না, গণমাধ্যমে এসেছে বেড়েছে। কিন্তু আসলে তা বাড়েনি। পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ২০১৮ থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৯ সালে কমে এসেছে। তারা যে তথ্য দিয়েছেন তাতে দেখা যায় আমাদের খেলাপি ঋণ আগের থেকে কমেছে।
রাকাব ও বিকেবির ডিসেম্বরের পর কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি কিন্তু উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যাংকিং খাতকে আরও জোরদার করতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব। যারা ঋণখেলাপির মাধ্যমে ত্রুটি বিচ্যুতি তৈরি করেছে, তারা টাকা ফেরত দিতে চাইলে তাহলে তাদের গ্রহণ করব। কিন্তু যারা টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে কিংবা নিজের বালিশের নিচে রেখে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনতা ও ফার্মার্স ব্যাংকের মালিকের পরিবারের সদস্যরাও জেলে আছেন। আইন আইনের গতিতে চলে, সেভাবে চলবে। প্রত্যেক ব্যাংকে সেবা উইং চালু করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ সেবা বিক্রি করা। আমরা পানি বিক্রি করি না, সেবা বিক্রি করব। কোথাও আর্থিক খাতের অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দিন। প্রত্যেক ব্যাংকে সেবা উইং চালু করুন। তারা অভিযোগগুলো আমাদের জানাবে।
বেসরকারি ব্যাংক খাতের ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পুনরায় বসব। তাদেরও সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসতে বাধ্য করব। সরকারি ব্যাংকগুলো সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, সব ব্যাংকে আমরা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনব। সিঙ্গেল ডিজিট না হলে খেলাপি ঋণ বাড়ে। ফলে ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতা কেউ লাভবান হন না। ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়ী উভয়কেই লাভবান করতে আমরা এটি করতে চাইছি। এটি করলে আমরা লাভবান হব।
টাকা পাচার প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাচার করুক, বালিশের নিচে রাখুক বা যেখানেই রাখুক না কেন পাচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর।
বৈঠকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।