অ্যালায়েন্সের সম্পর্ক ছিন্নের প্রক্রিয়া অবৈধ : হাইকোর্ট

তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে গঠিত উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি’র সম্পর্ক ছিন্নের প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

বিশ্বখ্যাত ২৮টি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি’ অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত। ২০১৩ সালে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর এটি গঠিত হয়। অ্যালায়েন্স সদস্যরা বাংলাদেশের ৭০০-এর বেশি কারখানা থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাংবিধানিকভাবে মৌলিক অধিকার নাগরিকের ক্ষেত্রে যেভাবে প্রয়োগ হবে ঠিক সেভাবে নাগরিকের প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানও নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। এখন থেকে অ্যালায়েন্সকে কোনো গার্মেন্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ’র সঙ্গে পরামর্শ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া জোটের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গার্মেন্টের নতুন নিরাপত্তাবিধি প্রণয়ন করতে বলেছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, নানা অভিযোগ এনে বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ২০১৭ সালের ১৮ জুন চিঠি দেয় অ্যালায়েন্স। ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বিএইচআইএস। রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ জুলাই রুল জারি করে হাইকোর্ট।

আদালতে বিএইচআইএসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। তিনি জানান, ইউরোপীয় ক্রেতা জোট অ্যাকর্ডের মতো অ্যালায়েন্সও বাংলাদেশে গার্মেন্টের নর্থ আমেরিকান ক্রেতা জোটদের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালের এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি দেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির কর্মপরিকল্পনা, অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ ব্যবস্থা, ভবনের নিরাপত্তা পরিদর্শন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তাদের ক্ষমতায়নের দেখভাল করত।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অ্যালায়েন্সকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল মূলত রানা প্লাজার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। কিন্তু তারা আমাদের দেশের গার্মেন্টগুলোতে একপ্রকার খবরদারি শুরু করে। শুধু তাই নয়, জোটের সঙ্গে অসংখ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অনেকটা অবৈধ প্রক্রিয়ায় ছিন্ন করা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএইচআইএস অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সম্পর্ক ছিন্ন করে অ্যালায়েন্স। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রিট ও রুলের শুনানি নিয়ে আজ (গতকাল) হাইকোর্টে এ রায় হলো।’