ফেসবুকের লিবরার মতো ভার্চুয়াল মুদ্রা চায় না ভারত

ক্রিপটোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা বন্ধ করতে চায় ভারত সরকার। এই ধরনের মুদ্রার ব্যাপারে একটি কমিটি করেছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কমিটি সব ধরনের বেসরকারি মুদ্রা বন্ধের সুপারিশ করেছে।

শুধু তা-ই নয়; ওই মুদ্রার লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং কড়া শাস্তির কথা বলা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। সেই সঙ্গে সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট খসড়া বিলও জমা দিয়েছেন তারা।

বেসরকারি মুদ্রা না চাইলেও বৈধ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে সরকার পরিচালিত একটি ডিজিটাল মুদ্রা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে কমিটি। যার উপরে রিজার্ভ ব্যাংকের নজরদারি থাকবে।

২০১৭ সালের ২ নভেম্বর আর্থিক বিষয়ক সচিবের নেতৃত্বে ডিজিটাল মুদ্রা সংক্রান্ত ওই কমিটি তৈরি হয়। কমিটির সদস্য ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব, বাজার নিয়ন্ত্রক চেয়ারম্যান ও রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর। সম্প্রতি সেই কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যা প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির আর্থিক বিষয়ক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে।

কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, বেসরকারি ডিজিটাল মুদ্রার না আছে মুদ্রার বৈশিষ্ট্য, না আছে নির্দিষ্ট দাম। বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা যায় না। সরকারি নিয়ন্ত্রণের তো প্রশ্নই নেই। সে কারণে এগুলোকে নিষিদ্ধ করা উচিত।

ফেসবুক কিছুদিন আগে ঘোষণা দেয় ২০২০ সাল নাগাদ তারা নিজস্ব ভার্চুয়াল মুদ্রা লিবরার প্রচলন শুরু করবে।

ভারতের মতো বাংলাদেশেও এই ধরনের মুদ্রা নিয়ে কড়াকড়ি আছে। ফেসবুকের মুদ্রার বিষয়ে খোদ আমেরিকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই মুদ্রার প্রচলন চায় না।

ভার্চুয়াল মুদ্রা আসলে কী?

এটি দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আনা যায় না ঘরে। রাখা যায় না ব্যাংকে। তবু বলা হচ্ছে মুদ্রা!

মনে করুন আপনার কাছে এক লাখ টাকা আছে। আপনি সেগুলো ব্যাংকে রাখতে চান না। আবার নিজের কাছেও রাখতে চান না। এমন একটা স্থানে রাখতে চান যেখান থেকে যে কোনো সময় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন, অর্থের মান আবার হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে। এটি করতে হলে ওই লাখ টাকা দিয়ে আপনাকে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হবে।

বাংলাদেশের মুদ্রার নাম যেমন টাকা, আমেরিকার যেমন ডলার, ভারতের যেমন রুপি ভার্চুয়াল মুদ্রারও আলাদা, আলাদা নাম আছে। এমন প্রায় এক হাজার মুদ্রা প্রচলিত আছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় মুদ্রার নাম বিটকয়েন। সারা বিশ্বের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এদের চুক্তি আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানে বিটকয়েন দিয়ে কেনাকাটা করা যায়।

এটি মূলত ডিজিটাল মানি। অর্থাৎ অনলাইনে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেই অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল কোডের মাধ্যমে আপনার মুদ্রা সংরক্ষিত থাকবে।

লিবরা জমা রাখতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ‘ক্যালিব্রা’ নামের একটি সাবসিডিয়ারি চালু করেছে, যা ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ভার্চুয়াল মুদ্রা সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও খরচ করার সুবিধা দেবে। ক্যালিব্রা ফেসবুকের কয়েক শ কোটি ব্যবহারকারীর মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বিটকয়েনের জন্যও এমন আলাদা ওয়ালেট আছে।

যারা প্রোগ্রামিং এবং গণিতে দক্ষ তারা বিশেষ কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল হিসাব সমাধান করে এই ধরনের মুদ্রা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসেন। যেমন বিটকয়েন নিজের অ্যাকাউন্টে আনার বা তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাইনিং’। সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হবে। এরপর আর কোনো বিটকয়েন তৈরি করা যাবে না। আপনি তৈরি করতে না পারলে টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকের মুদ্রা কীভাবে তৈরি হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

বিটকয়েনের সংখ্যা এমন সীমাবদ্ধ বলেই শেয়ারবাজারের মতো দর ওঠানামা করে। তাতে মানুষ এটি কিনতে বেশি আগ্রহী হয়।