নতুন গবেষণায় হার্ট অ্যাটাকের ‘আসল কারণ’ উদ্‌ঘাটন

মানুষের সঙ্গে অনেক মিল আছে এমন জেনেটিক প্রাণীর ভেতর হার্ট অ্যাটাকের ব্যাপারটি বিরল ঘটনা। শিম্পাঞ্জি থেকে বানরের শরীরে বিজ্ঞানীরা এই সমস্যা খুব একটা পাননি। অথচ প্রতি বছর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মৃতদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ মানুষ এই একটি রোগে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু কেন?

নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষের একটি জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই সমস্যাটি হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এটিই মূলত আসল কারণ।

হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা এমনিতে সাধারণ কিছু কারণের কথা বলেন থাকেন। এর মধ্যে স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস, ধূমপান, লাল মাংস খাওয়া অন্যতম। কিন্তু ১৫ শতাংশ রোগী আছেন, যাদের এই কারণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হয়। এটি কেন হয় চিকিৎসকদের সেটি অপার রহস্যের ব্যাপার।

এই রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন সান ডিয়েগো স্কুল অব মেডিসিনের প্রফেসর অজিত ভারকি। তিনি বলছেন, ‘ওই ১৫ শতাংশ রোগী আমাদের কাছে ধাঁধার মতো।’

‘এখন মনে হচ্ছে ওই ধাঁধার উত্তর আমরা পেয়ে গেছি। ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটি জেনেটিক মিউটেশনের ভেতর দিয়ে যায়। ওই মিউটেশন সিএমএইচ নামের একটি জিনকে অকার্যকর করে দেয়। যার কারণে আমাদের মলিকুলাসে ত্রুটি দেখা দেয়।

হার্ট অ্যাটাককে চিকিৎসকেরা মূলত মেডিকোসিস মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বলেন। হার্টে দুটো রক্তনালি থাকে। একটি হলো রাইট (ডান) করোনারি আর্টারি, আরেকটি হলো লেফট (বাম) করোনারি আর্টারি। এই রক্তনালিতে যদি কোনো কারণে চর্বি জমে থাকে, একে প্ল্যাক বা ব্লক বলা হয়। সেই ব্লকের ওপর যদি রক্ত জমাট বাঁধে, তখন এটি পুরোপুরি ব্লক হয়ে যায়। ১০০ ভাগ ব্লক হলেই যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ বুকে ব্যথা বা হঠাৎ করে মৃত্যু হওয়া, এ ধরনের যে পরিস্থিতি হয়, তাকে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

যারা ধূমপান করেন বা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস রয়েছে বা শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি বা পরিবারে যাদের হার্টের সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেশি। এ ছাড়া স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এগুলোর কারণেও দেখা যায় রক্তনালি ব্লকজনিত হার্টের সমস্যা বেশি হয়।

দ্য গার্ডিয়ান।