টাঙ্গাইলের কালীহাতিতে ছেলেধরা সন্দেহে মিনু মিয়া (৩০) নামের এক ভ্যান চালককে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সাংবাদিক সম্মেলনে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাইনুল হক, প্রভাত চন্দ্র , শিশির আহম্মেদ খান, আলামিন ইসলাম, মিজানুর রহমান এবং ওমর মিয়া। তাদের বাড়ি কালিহাতী উপজেলায়।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২১ জুলাই রোববার ছেলেধরা সন্দেহে কালিহাতী উপজেলায় সয়া হাটে ভ্যানচালক মিনু মিয়াকে গনপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। কিন্তু সে ছেলে ধরা ছিল না। মূলত সে হাটে মাছ ধরার জাল কিনতে গিয়েছিল।
পরে এ ঘটনায় আহতের ভাই রাজিব হোসেন সোমবার রাতে বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া জেলায় আরো দুই জনকে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়। কিন্তু তারাও ছেলে ধরা ছিল না। যদি কাউকে সন্দেহ হয় তাহলে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হইলো। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলেও এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, ছেলে ধরা সন্দেহে ভ্যান চালক মিনু মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে মারধর করে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে ওসি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রোববার সে কালিহাতীর সয়া হাটে গিয়েছিলেন মাছ ধরার জাল কিনতে। কিন্তু হঠাৎ করে এক ছেলেকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে মিনু মিয়াকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন তারা। অবশ্য কয়েক ব্যক্তি তাকে পিটুনি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। অবস্থা বেগতিক হয়ে গেলে পুলিশে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ এসে মিনু মিয়াকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে মিনুর অবস্থা অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু মাথায় আঘাত গুরুত্বর হওয়ায় রাতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়।