চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় দেড় শতাধিক ক্লিনিক, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। অথচ বছরের পর বছর এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চলছে বহাল তবিয়তে। আর এ কারণে চুয়াডাঙ্গার অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় মানুষ মারা যাওয়ার অভিযোগের লাইনও বেশ দীর্ঘ। কিন্তু এসব দেখভালের দায়িত্ব যাদের সেই স্বাস্থ্য বিভাগও রহস্যজনক কারণে চুপ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সামনেই আখিতারা জেনারেল হাসপতাল। বহুতল ভবনের এই ক্লিনিকটির মালিক এক ডাক্তার দম্পতি। যাদের একজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হোসনে জারি তহমিনা আখি। ক্লিনিকটিতে প্রসূতি মায়েদের সিজার, জরায়ু ও পিত্তথলির পাথর অপারেশনসহ জটিল রোগের অপারেশন চালিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে। কিন্তু এই ডাক্তার দম্পতির ক্লিনিকের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন। তারপরও ক্লিনিকটির তিনতলা থেকে আরও দুইতলা বাড়ানো হচ্ছে।
গত রবিবার চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ক্লিনিক, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায় অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র। বিশাল সাইনবোর্ডে বিশেষজ্ঞ সব ডাক্তারের নাম-পদবি লেখা। তারা এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখেন এবং অস্ত্রোপচারও করে থাকেন। কিন্তু এদের বেশিরভাগেরই নেই স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন। যেসব বড় বড় ডাক্তারের নাম লেখা রয়েছে তারাও বসেন না ক্লিনিকগুলোতে। অনেক ক্লিনিকে প্রসূতি মায়ের অস্ত্রোপচার, জরায়ু অপারশেন ও পিত্তথলির পাথর অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারশেনও করানো হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই। যার কারণে এসব অবৈধ ক্লিনিকে প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যু ঘটছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুই-একটি ক্লিনিকের অনুমোদন থাকলেও তারাও মানছে না সরকারি কোনো নিয়ম-কানুন। ১০ শয্যার অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ২৫-৩০ শয্যার। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অস্ত্রোপচারের রুমগুলোর অবস্থাও করুণ।
সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় সদ্য যোগদান করেছি। তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনোভাবেই অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।