ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি চলবে না : হাইকোর্ট

রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব গাড়ির ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলো ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর এই দুই মাসের মধ্যে নবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আদালত বলেছে, এই সময়ের মধ্যে যদি তা না করা হয়, তাহলে ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। আদালত বলেছে, ‘সড়কে কোনো আনফিট গাড়ি চলবে না। আমরা মানুষের পক্ষে কাজ করি। বিষয়টি আমরা শক্তভাবে দেখব।’  

ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে বিআরটিএর দাখিল করা একটি প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ আসে। আদালতে সংস্থাটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফীউল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ  কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।

বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হয়নি এমন গাড়ি রয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ

 

৬১ হাজার ১১৩, চট্টগ্রামে ১ লাখ ১৯ হাজার  ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮, রংপুরে ৬ হাজার ৫৬৮, সিলেটে ৪৪ হাজার ৮০৫ এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি গাড়ির ফিটনেস সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। গত ১০ বছরে এসব গাড়ির ফিটনেস সনদ নবায়ন হয়নি বলে জানান বিআরটিএর আইনজীবী মো. রাফীউল ইসলাম।

আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলে, এতদিন ধরে বিআরটিএর নাকের ডগায় এসব গাড়ি চলছে কীভাবে? আপনারা কি কোনো ব্যবস্থা নেননি? 

আইনজীবী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফিটনেসবিহীন গাড়িকে জরিমানা করে ৬ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ টাকা আদায় করা হয়েছে। আর ৩৯ হাজার ৮৮৭টি মামলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২১৪টি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানোর পাশাপাশি ৭২৮ চালককে কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বিআরটিএ নতুন কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী জানান, বিআরটিএ মিরপুরে একটি ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এটি করা হবে।

হাইকোর্ট বলে, বিদেশে গাড়িগুলোতে কোনো দাগ নেই, রং জ¦লে যায় না। কিন্তু আমাদের দেশের গাড়িগুলোতে দাগ, রং জ¦লে গেছে, দুই পাশ চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। লুকিং গ্লাস নেইÑ এমন কেন?

বিআরটিএর আইনজীবী বলেন, প্রাইভেট গাড়িগুলোতে তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু গণপরিবহনগুলো দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে আর ঠিক থাকে না।

হাইকোর্ট বলেছে, আমরা আর কোনো আনফিট গাড়ি সড়কে দেখতে চাই না। এসব আনফিট গাড়ির ফিটনেস নবায়নে দুই মাস সময় দিচ্ছি। এরপর আর কোনো সময় দেওয়া হবে না। আমাদের লাখ লাখ মামলা রয়েছে। গাড়ি নিয়ে কাজ করার মতো সময় আমাদের নেই। তারপরও মানুষের স্বার্থে এসব বিষয় আমাদের দেখতে হয়।

আনফিট গাড়ির ফিটনেস সনদ নবায়ন করতে পত্রিকায়, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ হবে।

আদালত বলে, এই দুই মাসের মধ্যে যেসব গাড়ির নবায়ন হবে না, ওই  সময়ের পর তা আর চলতে দেওয়া হবে না। আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নই। বিষয়টি আমরা শক্তভাবে দেখব। আমরা মানুষের পক্ষে কাজ করি।