দেশে একের পর সংঘটিত গণপিটুনির ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। যারা গণপিটুনির ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএটি) বিষয়ে সিভিল সোসাইটির এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান আইনমন্ত্রী। দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা কমেছে এবং আর একটাও যাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা না হয় সরকার সেদিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে আলোচনা সভায় জানান তিনি।
আনিসুল হক বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘন ঘন অগ্নিকা-, ধর্ষণ ও গণপিটুনির ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। যেকোনো ঘটনার একটা স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা আছে। আগুন লাগার ঘটনা কন্টিনিউয়াস ঘটতে থাকল। তারপর ধর্ষণের ঘটনাও তাই হলো। এখন গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এটা এক-দুটি দুর্ঘটনা হলে ঠিক আছে। পরিসংখ্যান বলে ১১-১২টি হয়েছে। এখানে এটা অস্বাভাবিক।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে যারা গণতন্ত্র প্রতিহত করতে চায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেটা চলছে সেটাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, সেটার কারণটা আমরা খতিয়ে দেখব। কাউকে পিটানো সেটা গণ হোক, ব্যক্তি হোক, সেটি একটি অপরাধ।
গণপিটুনিকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে কি না এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এদের বিচারের আওতায় আনা হবে। দেশের প্রচলিত আইনে যে বিচার তাদের হওয়া উচিত, সেই বিচার হবে। দেশে যথেষ্ট ভালো আইন আছে।’
এর আগে সেমিনারে আনিসুল হক বলেন, ‘দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা কমেছে। একটাও যাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা না হয়, আমরা সে দিকেই অগ্রসর হচ্ছি। নির্যাতন বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন কমেছে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতিসংঘে নির্যাতনবিরোধী প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও নির্যাতন রোধ, মাদক নির্মূলসহ এসিড সন্ত্রাসরোধে সরকার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।