হাইকোর্টের রুল

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা কেন বেআইনি নয়

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। ওই পরিপত্র কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না গতকাল মঙ্গলবার রুল জারি করে তা জানতে চেয়েছে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে এই নিয়ে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চের দেওয়া রুল নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগ এই বেঞ্চে পাঠালে গতকাল তা শুনানির জন্য ওঠে। এ সময় রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদের করা একটি সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ রুল জারি হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি) ও সব বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনিরুজ্জামান। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩১ জুলাই ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট।

মোট খেলাপি ঋণের দুই শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে একজন ঋণখেলাপি ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেনÑ গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এমন পরিপত্র চ্যালেঞ্জে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ মে ওই পরিপত্রের কার্যকারিতার ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছিল বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এরপর ২৪  জুন সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বৃদ্ধি করে হাইকোর্ট। গত ২ জুলাই হাইকোর্টের এই আদেশটি ৮ জুলাই (গতকাল) পর্যন্ত  স্থগিত করে এর ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছিল চেম্বার আদালত।

গত ৮ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল  বিভাগ শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ দুই মাস পর্যন্ত স্থগিত  করে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়, কোনো ঋণখেলাপি এই সুবিধা নিলে এই  সময়ের মধ্যে নতুন করে তিনি কোনো ঋণ পাবেন না। পাশাপাশি এ সংক্রান্তে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের এই বেঞ্চকে আদেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।

আইনজীবী মুনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে লোন নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে  সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এসব নির্ণয় ও রোধ করতে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল আদালত। এই রুলটি নিষ্পত্তি করতে গত ৮ জুলাই আপিল বিভাগের আদেশ ছিল। গত রবিবার রুলের শুনানি শুরু হয়। আজ (গতকাল) রিটকারী আইনজীবীর একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রুল জারি করল হাইকোর্ট।’