দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সরকারি হিসাবেই ডেঙ্গুতে ইতোমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১৯ থেকে ২৫-এর মধ্যে। বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছে, ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা গেলেও সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মকাণ্ড জনগণ দেখতে পাচ্ছে না। তবে বিএনপির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে শুধু সরকারকে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বিএনপির যারা মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাদের উচিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে যাওয়া। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি চালাতে সিটি মেয়রদের চাপে রাখা। পাশাপাশি সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু এর কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের খোঁজখবর ঠিকই নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগ বাড়িয়ে কিছু করতে গেলেও বিএনপির দোষ। সবকিছুতে ষড়যন্ত্র খোঁজে সরকার। ইদানীং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরা সন্দেহে মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এজন্য সরকার বিএনপিকে দায়ী করছে। ভারতেও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভারতের বিজেপি সরকার সেখানকার বিরোধী দল কংগ্রেসকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রার্থীর অভাব হয় না। একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যরা মনঃক্ষুণœ হন। এখন ঢাকা সিটিতে যখন ডেঙ্গুজ¦রের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তখন এসব মেয়র প্রার্থীদের দেখা নেই। যারা প্রার্থী হন তারা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের দেখতে যেতে পারেন। সরকারের উদ্দেশে কিছু বলতে পারেন করণীয় নিয়ে। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নের আশায় অনেকেই ভিড় করেছিলেন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে। মনোনয়ন না পেয়ে দুই কার্যালয়েই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছিলেন তাদের কেউ কেউ। এখন কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে যখন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় তখন সেসব প্রার্থীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।
ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের কোথাও দেখা না যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের উচিত হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নিয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের দেখতে যাওয়া। সরকারকে করণীয় নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। নির্বাচনে উত্তরে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল মিন্টু ও দক্ষিণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালাম ও ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কী করছেন জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান রিপন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের কিছু করার খুব একটা সুযোগ নেই। বন্যাদুর্গতদের জন্য কিছু করার সুযোগ আছে। তাই তাদের পাশে দলের পক্ষ থেকে দাঁড়ানো হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগের বিষয়ে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা। ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূল করা। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, সিটি করপোরেশন সে উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টকে উদ্যোগ নিতে হয়েছে। তাদের নির্দেশনা দিতে হয়েছে সিটি করপোরেশনকে। তাছাড়া জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হওয়ার পর বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কঠোর হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন অবিলম্বে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।