আসছে ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের বাইরে পশুর হাট বসাতে পারবে না কেউ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো যানবাহন থামাতে পারবে না পুলিশ বা র্যাব। জোরজবরদস্তি করে এক হাটের পশু অন্য হাটে নামানো যাবে না। এসব অভিযোগ এলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঈদ-সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ-র্যাবসহ সব সংস্থা কাজ শুরু করছে। পশুর হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পশুবাহী যানবাহনকে আমরা বেশি অগ্রাধিকার দেব। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাস্তায় যানবাহন থামানো যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহাসড়কের যেসব স্থানে সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলো সচল থাকবে সার্বক্ষণিক। পুলিশের কোনো সদস্য পশুবাহী যানবাহন আটকে অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ১৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। এতে সভাপত্বি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক, আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, আনসার, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশ কমিশনারসহ সব সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বলেন, ঈদুল আজহা আনন্দমুখর করতে আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতে হবে। পশু পরিবহন এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ঘিরে মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বন্যা মোকাবিলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহাসড়কে আকস্মিক বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ শুরু করতে প্রথমবারের মতো পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হবে। সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টার নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী নৌযান, ডুবুরি, অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নিতে হবে। সভায় পোশাকশ্রমিকদের নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। যেমন যানজট এড়াতে আগামী ৮ আগস্ট থেকে ছুটির ব্যবস্থা, ঈদের ছুটির আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধ হয়েছে কি না তা মনিটরিং করতে হবে। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতন-বোনাস দিতে সমস্যা হলে তালিকা করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিল্পপুলিশ বসে সমস্যা সমাধান করতে হবে। ঈদের আগে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। শিল্পাঞ্চল এলাকায় আগামী ৯ ও ১০ আগস্ট বা সুবিধামতো বন্ধের দিন ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হবে।
সভার সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা- রোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন, বিশেষ বিশেষ রাস্তায় ও মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন, টাকা স্থানান্তরে মানি এসকর্ট প্রদান, জাল টাকার বিস্তার রোধে ব্যবস্থা ও নৌ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া ঈদের ছুটিতে কূটনৈতিকপাড়াসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং অন্যান্য বড় শহর ও বন্দরে পুলিশের টহল বাড়াতে হবে। ফেরি, লঞ্চ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। পশুর হাটগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। প্রতিটি পশুবাহী যানবাহনে নির্দিষ্ট হাটের ব্যানার টানাতে হবে। চামড়া বেচাকেনা নিয়ে যাতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- না হয় সেদিকে পুলিশের সব সংস্থাকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। চামড়া যাতে পাচার না হতে পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ঈদযাত্রায় ফেরিঘাটে অনিয়ম ও অবৈধ সিরিয়াল যাতে কেউ নিতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ সব মহাসড়কে খানাখন্দ মেরামত করতে হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক ইত্যাদি স্বল্পগতির যান চলাচল করতে পারবে না। এর বিরুদ্ধে ভ্রামমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে। ঢাকার আরমানিটোলায় রাস্তার ওপর কোনো হাট বসানো যাবে না।