সাবেক স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া,ছেলেধরা সন্দেহে পুলিশে

আবারও সংসার করবেন এমন আগ্রহ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন সাবেক স্বামী-স্ত্রী। আলোচনার একপর্যায়ে তারা বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ৮ বছরেরএক শিশু। ঝগড়া আর পাশে দাঁড়ানো শিশু দেখে ছেলেধরা সন্দেহে তাদের আটক করে স্থানীয়রা। এরপর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর খারিজাগাথী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিশপুর গ্রামের এহসান আলী কালু ও চরবাগডাঙ্গা গ্রামে সেলিনা বেগমের বিবাহবিচ্ছেদ হয় বেশ কিছুদিন আগে। তবে এরপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। আবারও সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দুজন দেখা করতে এসেছিলেন। সেলিনা তার আট বছরের চাচাতো বোন মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। আলোচনার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় দুজনের মধ্যে। এ সময় স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাদের আটক করে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান জানান, খারিজাগাথী এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য জালাল উদ্দিনের বাড়ির পাশে তারা দেখা করতে এসেছিলেন। জালাল উদ্দিনের মাধ্যমেই তাদের সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় লোকজন তাদের সঙ্গে শিশু মৌসুমীকে দেখে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ করে ঘিরে ফেলে। পরে খবর দিলে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন নারী : গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজারে ছেলেধরা সন্দেহে  মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারীকে স্থানীয়রা ঘিরে ধরলে সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছেন ওই নারী। আমিনুল ইসলাম নামে ওই সাংবাদিক খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

আমিনুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত লোকদের শ্যামলীকে মারধর করতে নিষেধ করে গণধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশকে জানাই।

তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এসআই বাবুল বলেন, শ্যামলী ছেলেধরা নন। মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সাভারে নিহত নারীর নাম সালমা বেগম : সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই নারীর স্বজনেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গণপিটুনিতে নিহত ওই নারীর নাম সালমা বেগম (৩৭)। তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার মুসলিমাবাদ গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে এবং সাভার পৌর এলাকার ইমান্দিপুর মহল্লার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় ২১ জুলাই রাতে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৭০০-৮০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকা-ের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। খুব শিগগির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জে হত্যা মামলায় ছয়জন গ্রেপ্তার : কেরানীগঞ্জে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলো কামাল খান (২৬), জামাল (৩২), শাহ আলম (২৮), হাবিবুর রহমান (৩৮), হৃদয় ম-ল (২০) ও জয় বাড়ৈ (২০)। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি  মানিকগঞ্জের সিঙ্গার এলাকায়। তারা সবাই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।