ঈশ্বরদীতে নাসরিন সুলতানা স্বর্ণা (২৩) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পূর্ব টেংরি গোরস্থান পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নাসরিন সুলতানা স্বর্ণা (২৩) ওই এলাকার মনিরুল ইসলাম জনির স্ত্রী। তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারেনি।
আহত গৃহবধূ স্বর্ণা জানান, ‘রাতে তিনি জানালা খুলে পাশের খাটে বসে গল্পের বই পড়ছিলেন। এ সময় কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কাটার চেষ্টা করে। তখন একজনের হাত টেনে ধরে তিনি চিৎকার দিলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তার গলা থেকে রক্ত পড়তে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সংবাদ পেয়ে রাতেই ঈশ্বরদী থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাসনিম তামান্না বলেন, ‘গলার রগ কাটেনি। ক্ষত গভীর না হওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়নি। রোগী শঙ্কামুক্ত।’
নীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনার পর বুধবার রাতে এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সন্ধান করে। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ায় ধরা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ঘুমাতে পারছে না। বর্তমানে তারা আতঙ্কে আছেন বলেও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহিলা কাউন্সিলর ফিরোজা বেগম বলেন, এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ জানালা খুলে রাখছে না অজানা আতঙ্কে।
স্বর্ণার স্বামী জনি জানান, এলাকায় তার কোন শত্রু নেই। কে, কারা কেন এই কাজ করেছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি ব্যক্তিগত কোন বিষয় থাকতে পারে। এর আগেও জানালা দিয়ে গৃহবধূ স্বর্ণার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে তবে তাদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান ওসি।