বরিস জনসন : সাংবাদিক থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

২৪ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন। লন্ডনে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিসকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন কেবিনেট সদস্যরা। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসে রানীর সঙ্গে দেখা করে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বরিস।

২৩ জুলাই টোরি সদস্যদের ভোটাভুটিতে ৬৬.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদ নিশ্চিত করেন বরিস। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র সঙ্গে মতপার্থক্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। গত ২৪ মে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন টেরেসা।

বলা হচ্ছে, মাত্র এক বছর আগেও বরিসের সবচেয়ে কট্টর সমর্থকও ভাবতে পারেননি যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত। ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার জন্য উদগ্রীব জনগোষ্ঠীর নেতা এখন তিনি।

শুধু বিতর্কিত নয়, বাচনভঙ্গি, ঠোঁটকাটা স্বভাব, চাহনি, কৌতুক করে কথা বলার অভ্যাস, এলোমেলো চুল এবং ব্যক্তিগত জীবন বিবেচনায় অন্যান্য রাজনীতিবিদ থেকে তিনি কিছুটা ব্যতিক্রমও বটে।

স্পষ্টবক্তা বলে অনেকে তাকে পছন্দ করেন। কিন্তু মাঝে মাঝে এই স্বভাব বেশ বিড়ম্বনাতে ফেলে দেয় সতীর্থ ও সমর্থকদের। উদাহরণ হিসেবে লিবিয়া প্রসঙ্গটাই আনা যাক। ২০১৭ সালের অক্টোবরে লিবিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর সির্তেকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। ম্যাঞ্চেস্টারে কনজারভেটিভ দলের সম্মেলনে বরিস বলেন, ‘সুন্দর সমুদ্র, সাদা বালির তীরÑ শহরটাকে দ্বিতীয় দুবাই হিসেবে গড়ে তোলার দারুণ সব ভাবনা আছে ওদের। তবে কি-না লাশগুলো সাফ করতে হবে আগে।’ কথাটা বলে, যেন বড় একটা রসিকতা করেছেন, এমন ভাব করে হেসেছিলেন বরিস।

সমালোচনার ঝড় উঠেছে এতে। বিরোধীদের ছায়া-মন্ত্রিসভার বিদেশ বিষয়ক সদস্য এমিলি থর্নবেরির মতে, শহরটায় সৈকতাবাস গড়ার ক্ষেত্রে দেহগুলোকে বরিস নিছক অসুবিধা বলে মনে করতে পারেন, কিন্তু এটা নৃশংস ও অবিশ্বাস্য রকমের নির্বোধ আচরণ।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি জো সুইনসন বরিসের বরিসকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের যোগ্যই নন বরিস।’ যদিও দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বরিসই আজ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

জন্ম আমেরিকায়, পড়াশোনা ব্রিটেনে

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সাবেক কনজারভেটিভ সাংসদ স্ট্যানলি জনসন ও তার প্রথম স্ত্রী চিত্রকর শার্লট ফসেটের সন্তান আলেক্সান্ডার বরিস দে পিফেল জনসনের জন্ম ১৯৬৪ সালের জুনে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। সেই সূত্রে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব রেখে দিয়েছিলেন।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় জনসনের শৈশব কেটেছে নিউ ইয়র্ক, লন্ডন ও ব্রাসেলসে। ছোটবেলায় কানে শুনতেন না তিনি। তাই শৈশবেই তাকে বেশ কয়েকবার অপারেশনের টেবিলে যেতে হয়েছিল। আত্মীয়স্বজনদের তথ্য মতে, সেই সময়ে তুলনামূলক চুপচাপ ছিলেন বরিস।

তিনি ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান স্কুল, ব্রিটেনে অ্যাশডাউন হাউজ এবং অভিজাত স্কুল ইটনে পড়াশোনা করেন। গ্রাজুয়েশন করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’ ছাত্রসংসদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছিলেন বুলিনডং ক্লাবের সদস্য, যেখানে তার সঙ্গী ছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও। বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির কট্টর ডানপন্থি অংশের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ছাত্রজীবনে অল্প সময়ের জন্য বামধারার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যুক্ত ছিলেন।

প্রপিতামহ মুসলিম ছিলেন

মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে এরই মধ্যে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন বরিস জনসন। তবে, তার পিতৃকূলের পূর্বপুরুষরা মুসলিম ছিলেন। পিতৃকূলের দিক থেকে তিনি একইসঙ্গে ব্রিটিশ ও তুর্কি বংশোদ্ভূত। তার দাদার বাবা আলি কামাল ছিলেন তুর্কি মুসলিম এবং অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তিনিও প্রথমে সাংবাদিক ছিলেন, পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। অটোমান মন্ত্রিসভায় খুব কম সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। ১৯২০ এর দশকে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিলেন কামাল।

বাবার সূত্রে তার বংশের ইতিহাস জানতে ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে জনসন একবার তুরস্কে গিয়ে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। পূর্বপুরুষরা মুসলিম ছিলেন একথা অকপটে স্বীকার করলেও তার মধ্যে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভব প্রকট।

জনসন একসময় বলেছিলেন, ইসলাম চর্চার কারণেই মুসলমানরা ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে শত শত বছর পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়াও মুসলিম বিশ্বে প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির বাধা হিসেবে ধর্মীয় বিধিনিষেধকে তিনি দায়ী করেন।

২০১৮ সালে টেলিগ্রাফে লেখা একটি কলামে মুসলমান নারীদের পরা বোরকাকে ‘চিঠির বাক্স’ ও ‘ব্যাংক ডাকাতের’ সঙ্গে তুলনা করেন জনসন।

২০০৭ সালে অ্যান্ড দেন কেইম দ্য মুসলিম শিরোনামের এক প্রবন্ধে উইনস্টন চার্চিলের একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন জনসন। এতে বলা হয়েছে, ইসলামের চেয়ে বিশ্বে আর কোনো জোরালো পেছনমুখী শক্তি নেই।

জনসনের দাদার নানি মেরি লুই দে পিফেল ছিলেন উর্তেমবার্গের যুবরাজ পলের বংশধর। সেই সূত্রে গ্রেট ব্রিটেনের রাজা জেমস ওয়ান ও রাজা দ্বিতীয় জর্জেরও বংশধর তিনি। জনসনের বাবা স্ট্যানলি কনজারভেটিভ দলের সাংসদ হওয়ার আজে বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপিয়ান কমিশনে কর্মরত ছিলেন। জনসনের নানা স্যার জেমস ফসেট ছিলেন ইউরোপিয়ান মানবাধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট।

রাজনীতিতে আসার আগে ও পরে

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুনোর পর ১৯৮৭ সালে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন জনসন। কিন্তু দ্য টাইমস পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনে কাল্পনিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করে চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে আরও দুটি পত্রিকায় কাজ করার পর যোগ দেন বিখ্যাত দ্য টেলিগ্রাফে। ব্রাসেলসে ওই পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই পত্রিকায় ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ‘দ্য স্পেক্টেটর’ ম্যাগাজিনে রাজনৈতিক কলাম লিখতেন। পরে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ম্যাগাজিনটির সম্পাদক ছিলেন।

সাংবাদিকতায় থাকা অবস্থায়ই ১৯৯৭ সালে ক্লয়েড সাউথ এলাকা থেকে হাউজ অব কমন্সে নির্বাচন করেছিলেন জনসন। নির্বাচনে লেবার পার্টির মার্টিন জোন্সের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে, সাফল্য আসে ২০০১ সালে। সেবার হেনলি অন টেমস আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এমপি নির্বাচিত হলেও দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাকে তেমন পছন্দ করতেন না। ওই সময় তার বিরুদ্ধে এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনও ছিল। ২০০৫ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে আবারও এমপি হন।

২০০৮ সালে সংসদ সদস্যপদ ত্যাগ করে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হন জনসন। অপরাধ দূর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন এবং লেবার পার্টির প্রার্থী কেন লিভিংস্টোনকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের নির্বাচনেও লিভিংস্টোনকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে লন্ডনের মেয়র হন তিনি। তবে, তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী না হয়ে ২০১৫ সালে পশ্চিম লন্ডনের উক্সব্রিজ অ্যান্ড সাউথ রুইস্লিপ আসনে জয়ী হয়ে আবারও ব্রিটিশ সংসদে ফেরেন তিনি।

২০১৬ সালে বেক্সিট গণভোটে হারার পর ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রিত্ব এবং দলের নেতৃত্ব ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় যোগ দেন বরিস জনসন। তবে টেরিজা মে’র সঙ্গে পেরে উঠবেন না বুঝতে পেরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে অবশ্য কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থিদের চাপে বরিস জনসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন টেরিজা মে। কিন্তু যেভাবে টেরিজা মে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য মীমাংসা করছিলেন তাতে প্রচণ্ড নাখোশ ছিলেন বরিস জনসন। ব্রেক্সিট চুক্তিতে সংসদের অনুমোদন পেতে বারবার ব্যর্থ টেরিজা মে যখন দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নতুন সুযোগ লুফে নেন বরিস জনসন।

ব্রেক্সিট ও জনসন

ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের আগে যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের না থাকার পক্ষে ছিলেন তাদের অন্যতম মুখপাত্র হয়ে উঠেছিলেন জনসন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোটার ‘ব্রেক্সিটের’ পক্ষে মত দিলে, ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

টেরিজা মে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জনসন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৭ সালের জুনে আগাম নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায়ও জনসনের পদ বহাল থাকেন। পরের বছরের এপ্রিলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যৌথ বিমান হামলায় বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করলেও জনসন টেরিজা মে’কে অকুণ্ঠ সমর্থন দেন।

সিরিয়ার সাধারণ মানুষের ওপর সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এমন অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সমর্থিত বাহিনীর ওপর তিন দেশ ওই বিমান হামলা করেছিল।

গত বছর থেকে ব্রেক্সিট কার্যকরের পন্থা নিয়ে মে’র সঙ্গে লন্ডনের সাবেক এ মেয়রের দূরত্বও দিন দিন স্পষ্ট হতে থাকে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ব্রেক্সিটের খুঁটিনাটি নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মে। কিন্তু এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নমনীয় অবস্থানের সঙ্গে অন্যদের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন পদত্যাগ করেন।

এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রস্তাবিত ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই যেকোনো মূল্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ নিশ্চিত করতে চান জনসন। একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে এমন আভাসই দিয়েছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দরকার হলে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিদায় নেবে।’

তবে ব্রেক্সিট নিয়ে তার দল এবং পুরো ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে বিভেদ, মতানৈক্য চলছে, তাতে অক্টোবরের মধ্যে তিনি দেশকে ইইউ থেকে বের করে আনতে পারবেন কি নাÑ তা নিয়ে বিরাট সন্দেহ রয়েছে। যদি না পারেন তবে জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ খুবই সংক্ষিপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০২০ সালে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

সাবেক স্ত্রী ও বর্তমান প্রেমিকা

বিয়ে না করেই বয়সে ২৫ বছরের ছোট প্রেমিকা ক্যারি সিমন্ডসের সঙ্গে বসবাস করছেন জনসন। লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অর্থাৎ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তারাই হলেন প্রথম অবিবাহিত দম্পতি।

৩১ বছর বয়সী ক্যারি সিমন্ডস হলেন ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু সিমন্ডসের কন্যা। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারইউক-এ তিনি শিল্পের ইতিহাস এবং থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি সমুদ্র এবং সামুদ্রিক জীবন সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। তার কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত আছেন বরিসের বাবা স্ট্যানলি জনসনও। ২০১৮ সালে বরিস জনসনের সঙ্গে তার প্রণয়ের কথা ফাঁস হয় গণমাধ্যমে। হ্যালো ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে থেকে তারা প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ।

২০১৮ সালে ক্যারি সিমন্ডসের সঙ্গে প্রেমের খবরটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর স্ত্রী ম্যারিনা হুইলারের সঙ্গে ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে জনসনের। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘২৫ বছর বিবাহিত জীবন কাটানোর পর আমরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটছি। তবে, সন্তানদের ভালোর জন্য পরবর্তী জীবনে আমরা বন্ধু হয়ে একে অপরের পাশে থাকব।’

ম্যারিনা হুইলারের আগে জনসন প্রথম বিয়েটি মস্টিন ওয়েনকে করেছিলেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৯৩ সালে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। একই বছরে তিনি ম্যারিনাকে বিয়ে করেন। তবে, ২০০৪ সালে এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে চারবছর ধরে প্রেম করছেন বলে খবর রটে। এছাড়া ২০১০ সালেও ফাঁস হয়ে যায় যে, হ্যালেন ম্যাকিটায়ারের সঙ্গে প্রণয়ে স্টিফানি নামে তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।