দুদক চেয়ারম্যান বললেন

সক্ষমতার অভাবে শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, কমিশনের সক্ষমতার কিছু ঘাটতির কারণে কাক্সিক্ষত মাত্রায় অপরাধ উন্মোচন করা যায় না। সে কারণে কমিশনের মামলায় শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তারপরও কমিশনের ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিদের সাজা হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ইকবাল

মাহমুদের কাছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান জানান, কমিশনের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং তা চলমান রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু টিআইবি নয়, কমিশন সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চায়। দুর্নীতি প্রতিরোধে সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উদ্ভাবনীমূলক ধারণার প্রয়োজন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা গেলে সেটা হবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য যদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, তাহলে দুদক এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তাই সমঝোতা স্মারকে সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মসূচি রাখা প্রয়োজন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২৮ হাজার সততা সংঘ গঠন করেছে। তাদের মাধ্যমে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। টিআইবি এসব কার্যক্রমের ওপর গবেষণা করে ইম্প্যাকট অ্যাসেসমেন্ট করতে পারে। যাতে আমরা বুঝতে পারি আসলে কী ঘটছে? তিনি বলেন, আইনি কারণেই কমিশনকে ছোট-বড় সব ধরনের মামলাই করতে হয়। কারণ ক্ষুদ্র দুর্নীতির বিষয়ে যিনি অভিযোগ করেন তারও আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ছোটখাটো দুর্নীতির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে মামলার জট কমানো সম্ভব।

সাক্ষাতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের সঙ্গে টিআইবির নাড়ির সম্পর্ক। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই পাশে আছি। আমরা দুদককে আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে  কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, এটি বলা অত্যুক্তি হবে না যে,  টিআইবি বর্তমান কমিশনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাচ্ছে।