রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় ইজি ফ্যাশনের কর্মী দেলোয়ার হোসেন সাঈদকে (২০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরীসহ ৯ জনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সাঈদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে জানালা দিয়ে কিছু পোশাক নিচে ফেলেছে সন্দেহে ইজি ফ্যাশনের কাটিং সহকারী সাঈদকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মারধর করে কারখানাটির ম্যানেজার আরিফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ইজি ফ্যাশন ও আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি, কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।
সাঈদের মামা অ্যাডভোকেট আবু তাহের বলেন, গতকাল তারা কারখানার মালিক-কর্মচারীসহ ৯ জনকে এজাহারনামীয় ও আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে মামলা করেছেন। ইজি ফ্যাশনের চেয়ারম্যান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেনÑব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসহাক চৌধুরী, পরিচালক তৌহিদ চৌধুরী ও তার গাড়িচালক মাসুদ, কারখানার ম্যানেজার আরিফ হোসেন, জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ চৌধুরী, প্রোডাকশন ম্যানেজার নাজমুল হোসেন, মার্কেটিং অফিসার তুহিন ও অফিস সহকারী ইয়াসিন। পুলিশ মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় রেকর্ড করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ আমাদের বলেছে, সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। আপনারা ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করেন। তারপরও লাশ নেওয়ার জন্য ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছি। সন্ধ্যার সময় লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’এরপর লাশ নিয়ে স্বজনরা চাঁদপুরের কচুয়ার জয়নগর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। একই গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন ও নয়ন আক্তারের একমাত্র ছেলে ছিলেন সাঈদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিল জোয়ারদার জানান, হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত কারখানার ম্যানেজার আরিফ হোসেন, মার্কেটিং অফিসার তুহিন ও অফিস সহকারী ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারাই মূলত দেলোয়ারকে মারধর করে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শ্রমিকরা রাস্তায় নামেননি। তবে ওই থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও শিল্প পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। ছিল পুলিশের অ্যান্টি পারসোনেল কারও (এপিসি)।