বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রথম দিন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন

বৃহস্পতিবার রাত থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, শুক্রবার সকালেও এর কমতি নেই। এরই মধ্যে রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পেতে হবে বহুল কাক্সিক্ষত টিকিট। স্বজনদের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করতে ফিরতে হবে বাড়ি। গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি। এদিন রাজধানীর প্রধান প্রধান বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়েও টিকিটপ্রত্যাশীরা দাঁড়িয়ে আছেন কাউন্টারের সামনে। মানুষের চাপে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন টিকিট বিক্রেতারা।

কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় দিদারুল ইসলাম নামে পঞ্চগড়ের এক টিকিটপ্রত্যাশীর সঙ্গে। তিনি জানান, কোরবানিতে এবার দীর্ঘ ৯ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। ৮ তারিখের টিকিট করতে এসেছেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী দুজনের দুটি টিকেট কিনেছেন ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ভাড়া সামান্য কিছু বেশি নিলেও বেজায় খুশি দিদারুল ইসলাম।

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১২ আগস্ট। ৯ ও ১০ আগস্ট শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১১ থেকে ১৩ আগস্ট রবি, সোম ও মঙ্গলবার ঈদের তিন দিনের ছুটি। ১৪ আগস্ট বুধবার অফিস খোলা থাকলেও প্রায় সবাই ঐচ্ছিক ছুটি নিচ্ছেন। তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ এক দিন পিছিয়ে গেলে বুধবার ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে না। বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি। ১৬ ও ১৭ আগস্ট শুক্র ও শনিবার আবার সাপ্তাহিক। টানা ৯ দিনের ছুটি উপভোগ করতে ঘরমুখী মানুষ আগেভাগে রাজধানী ছাড়বেন।

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী বাস টার্মিনাল গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালীর প্রায় সব বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করে টিকিট কিনতে দেখা গেছে। ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনাল গাবতলীর হানিফ, শ্যামলী, ডিপজল, নাবিল, গ্রিন লাইন ও রোজিনা পরিবহনের কাউন্টারে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে। হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মোশারফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথম দিন বিবেচনায় যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেশি। সকাল থেকে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার টিকিটের ব্যবস্থা হবে। দুপুরের পর বলা যাবে টিকিটের কী অবস্থা।

এদিকে এবারের ঈদযাত্রা পুরোটাই বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় যাত্রাপথ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন যাত্রীরা। এছাড়া চলমান বন্যায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অনেক জায়গা ডুবে যাওয়ায় ঈদযাত্রায় খানিকটা বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা। কুড়িগ্রামের যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, ‘বানত (বন্যায়) এলাকা ডুবে গেইছে, মানুষের ঈদ এবার ভালো হবার নয়। বানের পানি যদি না নামে তা হইলে বাড়িত যাওয়াটাই মুশকিল হইবে।’ তবে বাস মালিকরা বলছেন, রোজার ঈদের অভিজ্ঞতায় কোরবানির ঈদযাত্রাও বিড়ম্বনামুক্ত হবে। বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ১১ ও  ১২ আগস্ট সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে আগাম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালোবাজারি বন্ধ, অতিরিক্ত দাম না নেওয়াসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলগামী অনেক রাস্তার সংস্কারকাজ চললেও ঈদযাত্রায় সেগুলো খুলে দেওয়া হবে।

সংগঠনের সভাপতি রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে টিকিট বিক্রি হবে। এবারও টিকিট বিক্রি মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যেন নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিতে না পারে, সেজন্য দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার চার্ট টানিয়ে দিতে বলা হয়েছে বাস কোম্পানিগুলোকে। কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়ার বেশি ভাড়া নেন, প্রমাণ সাপেক্ষে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।