টাইফয়েড জ্বরে করণীয়

দেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ সময়টাতে ছড়াচ্ছে নানা পানিবাহিত রোগ। এই পানিবাহিত রোগের মধ্যে টাইফয়েড একটি। সালমোনেলা টাইফি ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়।

লক্ষণ

রোগের প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। এছাড়া শরীর ম্যাজম্যাজ করা, মাথাসহ হাত-পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। বয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। শিশুদের ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। জ্বরের প্রায় সপ্তাহখানেক পর পেট ও পিঠে গোলাপি রঙের ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে । সালমোনেলা টাইফি অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস কিংবা নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন। সময় মতো চিকিৎসা না হলে পেট ফুটো হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে খিঁচুনি, অসাড় বোধ করা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্যান্য জটিলতার মধ্যে পিত্তথলির প্রদাহ, নিউমোনিয়া, অস্থিসন্ধি ও অস্থির প্রদাহ, মেনিনজাইটিস, হৃদপিণ্ডর মাংসপেশিতে প্রদাহ, কিডনি প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

রোগ বোঝার উপায়

টাইফয়েড রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তবে রোগ নির্ণয়ের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো রক্তের কালচার। ভিডাল টেস্ট করা, অবশ্য ভিডাল টেস্ট কোনো নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়। কেননা টাইফয়েড জ্বরের জন্য টিকা নিলেও এ পরীক্ষাটি পজিটিভ আসতে পারে। পায়খানা-প্র¯্রাব কালচার করে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে  জীবাণু আলাদা করা যায়।

চিকিৎসা

চিকিৎসকরা জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট দিনে ৪-৫ বার সেবন করার পরামর্শ দেন। এ জ্বরের মূল চিকিৎসা করা হয় অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে। যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই শুরু করা হোক না কেন, চিকিৎসা ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতে হয়। নইলে জীবাণু না মরে মানবদেহের পিত্তথলি কিংবা কিডনিতে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে জীবাণুটি পায়খানা বা প্র¯্রাবের সঙ্গে মিশে অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

প্রতিকার

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা হলে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হলে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই কমে যেতে শুরু করে। জ্বর সেরে গেলেও সম্পূর্ণ কোর্স সমাপ্ত করতে হবে।  টাইফয়েড জ্বরে সাধারণত টানা ১৪ দিন বা কখনো তারও বেশি দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে বা ইনজেকশন দিতে বলা হয়। টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে তিন ধরনের টিকা আছে। একটি মুখে খাওয়ার এবং বাকি দুটি ইনজেকশন। দুবছরের বেশি বয়সী শিশুরা এ টিকা নিতে পারে। টিকা কার্যকর থাকে তিন বছর। এছাড়া পরিষ্কার পোশাক পরা। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা। হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে।

কী খাওয়া উচিত

ঠা-া খাবার, ফ্রিজের পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কুসুম গরম পানি পান । যে কোনো নরম খাবার যেমন সবজি, ডিমসেদ্ধ ইত্যাদি খাবার হজম হতে সুবিধে হয়। আদার মতোই রসুনও সর্দিজ্বর নিরাময়ে খুবই কার্যকর। এককাপ মতো পানিতে একটি কোয়া ফেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই ঈষদুষ্ণ পানি দিনে দুইবার খেলে জ্বর কমাতে সাহায্য করে। আদা দিয়ে গলানো ভাত খুব একটা উপাদেয় নয় কিন্তু ফ্লু-এর ক্ষেত্রে শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ভাতটা গলা গলা থাকলে ভালো। আপেল, কমলালেবু, আঙ্গুর, আনারস ইত্যদি ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। এমন ফল খাওয়া। জ্বরের সময় মাঝেমধ্যেই একটি-দুটি করে কিশমিশ খাওয়া ভালো কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। দেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ সময়টাতে ছড়াচ্ছে নানা পানিবাহিত রোগ। এই পানিবাহিত রোগের মধ্যে টাইফয়েড একটি। সালমোনেলা টাইফি ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়।

লক্ষণ

রোগের প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। এছাড়া শরীর ম্যাজম্যাজ করা, মাথাসহ হাত-পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। বয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। শিশুদের ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। জ্বরের প্রায় সপ্তাহখানেক পর পেট ও পিঠে গোলাপি রঙের ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে । সালমোনেলা টাইফি অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস কিংবা নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন। সময় মতো চিকিৎসা না হলে পেট ফুটো হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে খিঁচুনি, অসাড় বোধ করা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্যান্য জটিলতার মধ্যে পিত্তথলির প্রদাহ, নিউমোনিয়া, অস্থিসন্ধি ও অস্থির প্রদাহ, মেনিনজাইটিস, হৃদপি-ের মাংসপেশিতে প্রদাহ, কিডনি প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

রোগ বোঝার উপায়

টাইফয়েড রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তবে রোগ নির্ণয়ের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো রক্তের কালচার। ভিডাল টেস্ট করা, অবশ্য ভিডাল টেস্ট কোনো নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়। কেননা টাইফয়েড জ্বরের জন্য টিকা নিলেও এ পরীক্ষাটি পজিটিভ আসতে পারে। পায়খানা-প্র¯্রাব কালচার করে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে  জীবাণু আলাদা করা যায়।

চিকিৎসা

চিকিৎসকরা জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট দিনে ৪-৫ বার সেবন করার পরামর্শ দেন। এ জ্বরের মূল চিকিৎসা করা হয় অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে। যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই শুরু করা হোক না কেন, চিকিৎসা ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতে হয়। নইলে জীবাণু না মরে মানবদেহের পিত্তথলি কিংবা কিডনিতে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে জীবাণুটি পায়খানা বা প্র¯্রাবের সঙ্গে মিশে অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

প্রতিকার

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা হলে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হলে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই কমে যেতে শুরু করে। জ্বর সেরে গেলেও সম্পূর্ণ কোর্স সমাপ্ত করতে হবে।  টাইফয়েড জ্বরে সাধারণত টানা ১৪ দিন বা কখনো তারও বেশি দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে বা ইনজেকশন দিতে বলা হয়। টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে তিন ধরনের টিকা আছে। একটি মুখে খাওয়ার এবং বাকি দুটি ইনজেকশন। দুবছরের বেশি বয়সী শিশুরা এ টিকা নিতে পারে। টিকা কার্যকর থাকে তিন বছর। এছাড়া পরিষ্কার পোশাক পরা। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা। হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে।

কী খাওয়া উচিত

ঠাণ্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কুসুম গরম পানি পান । যে কোনো নরম খাবার যেমন সবজি, ডিমসেদ্ধ ইত্যাদি খাবার হজম হতে সুবিধে হয়। আদার মতোই রসুনও সর্দিজ্বর নিরাময়ে খুবই কার্যকর। এককাপ মতো পানিতে একটি কোয়া ফেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই ঈষদুষ্ণ পানি দিনে দুইবার খেলে জ্বর কমাতে সাহায্য করে। আদা দিয়ে গলানো ভাত খুব একটা উপাদেয় নয় কিন্তু ফ্লু-এর ক্ষেত্রে শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ভাতটা গলা গলা থাকলে ভালো। আপেল, কমলালেবু, আঙ্গুর, আনারস ইত্যদি ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। এমন ফল খাওয়া। জ্বরের সময় মাঝেমধ্যেই একটি-দুটি করে কিশমিশ খাওয়া ভালো কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট।