জাবি ছাত্রীসহ ডেঙ্গুতে দুই দিনে ৬ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত শুক্র ও শনিবারে সারা দেশে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন শিক্ষার্থী, দুজন ডাক্তার, একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও একজন গৃহবধূ। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে আরও ৬৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী উখিংনু রাখাইন  শনিবার বিকেল ৫টার দিকে নিজ জেলা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনি জাবির প্রীতিলতা হলের আবাসিক ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন উখিংনু। জ্বর বাড়লে তাকে বাড়িতে আনা হয়। বেশি অসুস্থ হলে ১৭ জুলাই তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় রুমানা খান নামের এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী শুক্রবার রাত ১টার দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মেহেরুল্লাহর মেয়ে ও ঢাকার বেনাপোল সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জামসেদ আলী খানের স্ত্রী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ১০ জুলাই তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান।

একই রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ফিরোজ কবীর স্বাধীন মারা যান। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে থাকা ফিরোজের অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ভর্তি পরীক্ষায় ৯ম স্থান হওয়া এই শিক্ষার্থীর। কৃষক বাবাকে কৃষিকাজ থেকে মুক্তি দিতে চাওয়া ফিরোজ নিজেই দুনিয়া থেকে মুক্তি নেন।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তানিয়া সুলতানা নামে আরেক নারী চিকিৎসক মারা যান। তিনি রাজধানী ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রী তানিয়া, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পার্ট-২ এর শিক্ষার্থী ছিলেন। তানিয়া ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার প্রথমে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তাকে স্থানান্তর করা হয় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহের বাসিন্ধা মুক্তিযোদ্ধা ডা. উইলিয়াম ম্রং মারা যান। তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ডালু সাব-সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত দুদিন ধরে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় এইচডিইউ শাখায় ভর্তি ছিলেন।

শুক্রবার সকালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সৈয়দা দিলরুবা নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার বারডেম হাসপাতালে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের মৃত মওলানা মো. সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। গত ১৯ জুলাই দিলরুবা ঢাকায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিআইএইচ বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত সোমবার তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে রাজশাহী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরে ১২৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে এখনো ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, চিকিৎসা নিতে আসা কেউই রাজশাহীতে আক্রান্ত হননি। ঢাকা বা অন্য কোথাও থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন।

নোয়াখালীতেও ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান জানান, কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে এবং দুটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে ।

চট্টগ্রামে গতকাল নতুনভাবে ছয় রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। জেলাটিতে এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৪ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলার ১৪ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

লক্ষ্মীপুরে দুই দিনে জেলার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি দুজনের অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে বলেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।