এ বছর রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি একাধিক হিসাবে এবার এডিস মশার বিস্তারের কারণে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ। আর ডেঙ্গু আতঙ্কে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শরীরের উন্মুক্ত অংশ ঢেকে কিংবা মশাপ্রতিরোধী তরল রাসায়নিক মেখে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন অনেকেই। আবার অনেক শিশু ক্লাসে মশার অত্যাচারে স্কুলে যেতে চাইছে না বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রেখে এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মশার কামড়ের ভয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ড্রেসের সঙ্গে লম্বা মোজা ও জামা পরে শরীর ঢেকে ক্লাসে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আবার অনেকেই স্কুলে যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। অভিভাবকরাও স্কুল-কলেজে তাদের সন্তানকে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়, ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি রোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠ ও ভবনগুলোর মধ্যে পানি জমে থাকে এমন জায়গা, ফুলের টবে জমে থাকা পানি এডিস মশার উপযুক্ত প্রজননক্ষেত্র। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবেÑ ১. খেলার মাঠ ও ভবনগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে; ২. মাঠ কিংবা ভবনে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে; ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য যেসব ফুলের টব রয়েছে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে; ৪. ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে। এ নির্দশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করাসহ প্রতি সপ্তাহে
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করবেন মহাপরিচালক।
সরেজমিনে রাজধানীর আজিমপুরে অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রীরা অনেকেই ড্রেসের সঙ্গে লম্বা জামা ও মোজা পরে এসেছে। একই অবস্থা আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কয়েক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, কখন, কোথায়, কীভাবে মশা কামড়াবে তা তো আগে থেকে বলা যাচ্ছে না। সেজন্য নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউজ্জামান ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার সতর্কতা জারির আগে থেকেই একটা নির্দেশনা ছিল প্রতি বৃহস্পতিবার যেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। আমরা সেগুলো নিয়মিত করে থাকি। তারপরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এক দিন পরপর আমরা স্কুলের চারপাশে ওষুধ ছিটিয়ে দিচ্ছি। ফলে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়নি।’ স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে না বলেও জানান তিনি।
ধানমণ্ডি বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘গত ১৫ দিন আগে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বিদ্যালয়ের আশপাশে মশার ওষুধ ছিটিয়ে চলে গেছে। আমরা নিজেরাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছি।’
এদিকে ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে গত শুক্রবার দুপুরে মতবিনিময় সভা করেছেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। মিরপুর গালর্স আইডিয়াল ইনস্টিটিউটে এ সভায় ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্কতা দিয়েছে। তা ছাড়া আগে থেকেই বলা আছে, প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। তবে যেহেতু বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ ব্যাপারে আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা ভাবা হচ্ছে।’