টপ অর্ডারের হতশ্রী ব্যাটিংয়ে আরেকবার ভুগল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচটা টাইগারদের জন্য বাঁচা মরার। এমন ম্যাচে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম বাদে ব্যর্থ হলেন সবাই। ফলাফল যা হরার তাই। দু শ পেরোতেই রীতিমতো যুদ্ধ করতে হলো বাংলাদেশকে।
শেষ পর্যন্ত মুশফিক রহিমের অপরাজিত ৯৮ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৪৩ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২৩৮ রানের পুঁজি গড়েছে টাইগাররা।
প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের। প্রশ্ন হলো- এই পুঁজি নিয়ে জিততে পারবে তো টাইগাররা?
রবিবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার স্থায়ী হতে পারেননি খুব বেশিক্ষণ। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের পর মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমান ব্যর্থতার ষোলোকলা পূরণ করেন। স্কোর বোর্ডে ৮৮ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
আগের ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গার প্রথম ওভার থেকেই ধুঁকেছে বাংলাদেশ। নিজের বিদায়ী ম্যাচে একের পর এক ইয়র্কারে কুপোকাত করে গেছেন টাইগারদের। এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে সাবধানী শুরু করেন এই সিরিজে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম।
কিন্তু সাবধানী শুরুর পরও মালিঙ্গাবিহীন শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশের ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়ল। দলীয় ২৬ রানেই সৌম্য সরকার আর ৩১ রানে তামিম ইকবাল ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।
নুয়ান প্রদীপের ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলটা ছিল-ফুলটস। সেই বলটাই কিনা ব্যাটে বলে করতে পারলেন না সৌম্য। প্যাডে আঘাত হানল বলটি। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিতে একবারও ভাবেননি। ১৩ বলে ১১ রান করেন তিনি ১ চারে।
সৌম্য অবশ্য রিভিউ নেবেন কিনা সিদ্ধান্ত নিতে খানিক সময় দাঁড়িয়ে রইলেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে তামিমের সাড়া না পেয়ে আর রিভিউ নেননি।
আগের ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গার অবিশ্বাস্য বলে ফিরেছিলেন তামিম। রানের খাতা খোলার আগেই। এদিন ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে রানে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হলেন। ইসুরু উদানার নবম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। ৩১ বলে ২ চারে ১৯ রান করেন তামিম।
সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বর পজিশনটায় সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নির্ভরতার আভাস দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু মূল সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ তিনি। আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১২ রান করেই ফেরেন তিনি। তাতে ৫২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমান। ১৮ বলে ৬ রান করে আকিলার বলে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ। ১১ রান করা সাব্বির শিকার হন রান আউটের।
৮৮ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখাতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেনও। মুশফিকের সঙ্গে তার ষষ্ঠ উইকেটের জুটিটা ২৯ রানেই থামে। ২৭ বলে ১৩ রান করে উদানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেক। তাতে ১১৭ রানেই ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।
এরপর মিরাজকে নিয়ে মুশফিকের অববদ্য এক জুটি। দুজনের ৮৪ রানের জুটিতেই রক্ষা। তবে দলের স্কোর দুইশ পেরোনোর পর ফিরে যান মিরাজ। প্রদীপের বলে করুনারত্নেকে ক্যাচ দেন। ৪৯ বলে ৬ চারে নিজের ইনিংস সাজান মিরাজ।
শেষ দিকটায় মুশফিকের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিল সবাই। প্রথমে তাইজুল ও পরে মোস্তাফিজকে নিয়ে দারুণ চেষ্টার পরও পারেননি সেঞ্চুরি আদায় করে নিতে। মুশফিকে স্ট্রাইকে থাকার সুযোগ করে দিতেই ৩ রানে রান আউট হতে হয় তাইজুলকে। মোস্তাফিজ ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুশফিক ১১০ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান ৬ চার ও ১ ছক্কায়।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নুয়ান প্রদীপ, ইসুরু উদানা ও আকিলা ধনঞ্জয়া।