বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের পক্ষে কথা বলা, নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা যদি গুজব হয়, তা হলে বিএনপি তা বলেই যাবে। বিএনপি সত্য উচ্চারণ করেই যাবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস একটা গুজবের ফ্যাক্টরি’ গত শনিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা জাতির সামনে তুলে ধরা, সরকারের লুটপাট ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা, শেয়ারবাজার লুট নিয়ে কথা বলা, বিরোধী দলের ওপর সরকারি নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা, নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলাই কি গুজব? তিনি বলেন, চারদিকে বিদ্যমান ভয়ংকর অরাজকতা দূর করতে জনগণের প্রলয় সৃষ্টি হবেই। আর আপনারা অন্ধ হলেও সেই প্রলয় বন্ধ হবে না। এই ভয়ংকর নাৎসি শাসনের অমানিশার মধ্যে বিএনপিই কেবল জনগণের আশা-ভরসার উদিত একটি আলোকবিন্দু।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ উপহাস করছে। কিন্তু বাস্তবতা গত শনিবার দেশবাসী দেখেছে। বেগম জিয়াকে যখন পিজি হাসপাতালের কেবিন ব্লক থেকে হুইল চেয়ার থেকে নামিয়ে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল তখন দুজনে ধরেও তাকে দাঁড় করাতে পারেননি। কষ্টে কাতরাচ্ছিলেন তিনি। হুইল চেয়ারেও বসতে পারছিলেন না, কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ভালো আছেন; আগের চাইতে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল পরিচালকের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিএসএমএমইউর পক্ষ থেকে সরকারি বার্তাই জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবতা হলো খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, কিন্তু সরকার সেটি অগ্রাহ্য করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।