হাইকোর্টের অভিমত

ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া ক্ষতিপূরণের মামলা নয়

এখন ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে (নিহতের স্বজন ও আহত) উপস্থিত থাকতে হবে এবং জনস্বার্থে অন্য কেউ তা করতে পারবে না বলে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বর-কনেকে বহনকারী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১ জনের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার এ অভিমত দেয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চ।

রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সারা দেশে অরক্ষিত প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না এবং অরক্ষিত রেল ক্রসিং প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কেন সংস্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রেল ও এলজিইডি সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই উল্লাপাড়ায় একটি উন্মুক্ত রেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনে ও তাদের স্বজনদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বর রাজন আহমেদ (২২) ও কনে সুমাইয়া খাতুনসহ (২১) নিহত হন ১১ জন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব। এর জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।

গতকাল রিটের পক্ষে আদালতে নিজেই শুনানি করেন তিনি। আইনজীবী পল্লব বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছেন, এখন থেকে ক্ষতিপূরণের মামলা করে তা পেতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যেমন নিহতের স্বজন ও আহত কিংবা তাদের স্বজনদের আদালতে আসতে হবে। অন্য কেউ মামলা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’