জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শাহতাজ মুনিরা হাশেম। তার অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনা কিংবা গান সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে প্রচুর। তবে তিনি কোনোকিছুতেই নিয়মিত নন। বছরে দু-একটি নাটকের বেশি তাকে দেখা যায় না। এত কম নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বরাবরই বলে এসেছেন, ভালো গল্প আর চরিত্রে বৈচিত্র্য না থাকলে মুখ দেখানোর অভিনয় করতে চাই না।
তবে এবার ঈদে শাহতাজ ভক্তরা দারুণ খুশি হবেন। কারণ এই অভিনেত্রী এবার হাফ ডজনের মতো নাটকে কাজ করেছেন। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর শাহতাজকে এতগুলো নাটকে দেখতে পাবেন দর্শক। এবার এতগুলো নাটক করা প্রসঙ্গে শাহতাজ ওই একই কথাই বললেন, ‘খুব ভালো কিছু গল্প পেয়েছি। তাই এবার আর না করতে পারিনি। তাছাড়া এখন থেকে অভিনয়টাকে আরও সিরিয়াসলি নিতে চাই।’
এবার শাহতাজ যে নাটকগুলো করেছেন তার মধ্যে একটির নাম ‘টিকটক গার্ল’। বিভিন্ন ধরনের গান, সিনেমার সংলাপসহ নানা রকম মজাদার অডিওর সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে আপলোড করা যায় টিকটক অ্যাপে। চীনা এই অ্যাপটি এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক তারকারাও মজেছেন এই অ্যাপ নিয়ে। সেই গল্প নিয়েই এই নাটক। শাহতাজ বলেন, ‘এটা একেবারেই এ সময়ের আধুনিক গল্প। চরিত্রটি সবার আশপাশেই ঘোরাঘুরি করে। এমন একটি বাস্তব চরিত্র প্লে করতে খুব মজা লেগেছে।’
শাহরিয়ার খান রচিত এই নাটকটি পরিচালনা করেছেন আলক হাসান। নাটকটিতে শাহতাজের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ।
এখানে দেখা যাবে, শাহতাজের টিকটক ভিডিও দেখে একটি ছেলে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে প্রেমিক ইরফান সাজ্জাদ পড়েন বিপাকে। তখন ইরফান বলেন, চকচক করলেই যেমন সোনা হয় না, টিকটক করেই তেমনি নায়িকা হওয়া যায় না। তারপর কী হয়? দেখতে হবে নাটকেই।
শাহতাজ আরও বলেন, ‘টিকটক তরুণ-তরুণীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। সবকিছুর একটা লিমিট থাকা উচিত। এখন সবাই টেকনোলজির দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে আসক্তির ফলে নিজেদের সম্পর্কগুলো নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় বিপদে পড়তে হচ্ছে। এটাই দেখানো হয়েছে এই নাটকে।’ আসছে ঈদুল আজহায় ‘টিকটক’ গার্ল নাটকটি একটি অনলাইন প্লাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।
এবারের ঈদের নাটকগুলোর মধ্যে শাহতাজের বেশি প্রিয় ‘সীমান্তহীন পাখি’ নাটকটি। কারণ এবারই তাকে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে পাওয়া যাবে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দুই দেশের দুটি মানুষের ভালোবাসার গল্পগাথা নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। আনন জামানের রচনায় এটি পরিচালনা করেছেন শুদ্ধমান চৈতন। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আরও আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সজল। গল্পে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উলিখোলা গ্রামে পৌষ মাসকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। দুই দেশের মানুষ নানা রকম বাহারি পণ্য নিয়ে মেলায় আসে। উলিখোলায় বেড়ে ওঠা বকুলাও সে মেলায় যায়। ঘটনাক্রমে সেখানে তার একটি ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পর্যায়ক্রমে তা ভালো লাগা পর্যন্ত গড়ায়। সন্ধ্যা হতেই বর্ডার বন্ধ হওয়ার নির্দেশ আসে। বকুলা ও ছেলেটির মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। কারণ বছরে একবারই উলিখোলা গ্রামের বর্ডার খোলা হয়। শেষ পর্যন্ত দুজনের এমন হঠাৎ পরিচয়ের পরিণতি কী হয়, তা নিয়ে নাটকের গল্প এগিয়ে যায়।
শাহতাজ বলেন, ‘সব সময় এমন গল্প বলতে চেয়েছি, যার মধ্যে দর্শক নতুনত্ব খুঁজে পান। সীমান্তহীন পাখি নাটকেও সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমার বাংলা উচ্চারণ খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু এর নির্দেশক একজন শিক্ষক। তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। তাই আমিও সাহস নিয়ে চরিত্রটি করেছি। নাটকটি আসছে ঈদুল আজহায় বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে।’
এই নাটকের একটি মজার কথা শেয়ার করলেন শাহতাজ, ‘এই নাটকে আমি ছাড়া নাট্যকার, নির্দেশক, নায়ক ও অন্য কলাকুশলীরা সবাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক। এমন একটি শিক্ষিত টিমের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। আশা করছি নাটকটি দর্শককে নাড়া দেবে।’
এর বাইরে সজলের বিপরীতে ‘নন্দিনীর কথা’ নামের একটি নাটক করেছেন শাহতাজ। শাওনের বিপরীতে রয়েছে আরও একটি নাটক। এছাড়া নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন বাংলাভিশনের জনপ্রিয় টক শো ‘ওয়েব লাইফ উইথ শাহতাজ’। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইংরেজি কভার সং আপলোড করবেন শিগগিরই। ঈদের পর দ্বিতীয় মৌলিক গানও প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন শাহতাজ।